এম আবদুল্লাহ
যে কোন জাতির সবচেয়ে কাঙ্খিত ও বাঞ্ছিত ধন স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব। যথার্থভাবেই কবি প্রশ্ন করেছেন, ‘স্বধীনতাহীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে, কে বাঁচিতে চায়?’ ইতিহাসে এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজলে দেখা যাবে যারা আত্মমর্যাদাহীন, যাদের মনুষ্য বোধের অভাব আছে, শুধু তারাই স্বাধীনতার মতো পরম ধনের মূল্য দেয়নি। তাদের স্বাভাবিক পরিণতি ঘটেছে ঘৃণা ও বিস্মৃতিতে। অপরদিকে যারা আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন, ঐতিহ্য ও স্বাতন্ত্র্যকে রক্ষা করা যাদের জীবনবোধ, দায়িত্ব কর্তব্যের অংশ, তারা জাতি হিসাবে ইতিহাসের উজ্জ্বল অধ্যায়ের নায়ক।
শত বাধা বিপত্তি, হাজারো প্রতিকূলতা ও অন্তরায়ের মধ্যেও যারা দেশ ও জাতির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে নিজ নিজ রক্ত ধমনীর প্রবাহে অনুভব করেছেন, এই পবিত্র অনুভূতি ও উপলব্ধির জন্য অকুন্ঠচিত্তে সবকিছু বিসর্জন দিয়েছেন, তাদের কেউ পরাজিত করতে পারেনি। না কোন বহিঃশত্রু, না কোন আভ্যন্তরীণ দুঃশাসক। যে কোন দেশ, যে কোন জাতি একটি অনন্য সূত্রের উপর দাঁড়িয়ে এক ও অভিন্ন কণ্ঠ সোচ্চার করে তুলতে পারে এবং সে সূত্রটির নাম জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব।
বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ। শোষণ ও লাঞ্ছনা-বঞ্চনায় বহুবিধ সমস্যা এখানে জমে আছে। কিন্তু জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে এই দেশ, এই জাতি গৌরবোজ্জল ঐতিহ্য ও কীর্তির ধারক। স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে এ জাতি কখনো আপোষ করতে শেখেনি। ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে সেটাই প্রত্যক্ষ করেছে বিশ্ব। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরেও এ জাতি সেটাই প্রমান করেছে। যে কারণে বাংলাদেশের ইতিহাসে দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আধিপত্যবাদী শক্তির নাগপাশ থেকে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত মোকাবিলায় ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর মুক্তিকামী সিপাহী-জনতা অভাবনীয় ভূমিকা পালন করে।
জেনারেল জিয়াউর রহমানের সমর্থনে দেশপ্রেমিক সিপাহী ও জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে ৭ নভেম্বর রাজপথে নেমে খালেদ মোশাররফের ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত প্রতিহত করে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করেছিল। এরই মধ্য দিয়ে স্বর্ণোজ্জল দলিলে জনতার প্রাণের অর্ঘ্য দিয়ে লেখা হয় বীর সেনানীদের নাম। আর দলিলের শিরোনামে শোভা পায় একটি নামÑ মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান বীরোত্তম। সেনা বাহিনী, নৌ-বাহিনী, বিমান বাহিনী, বাংলাদেশ রাইফেলস, পুলিশ এবং আসনার বাহিনীর বীর সিপাহীদের জাগ্রত চেতনা, বৈপ্লবিক সত্তার প্রকাশ ঘটে সেদিন। প্রমান করে, এ জাতির স্বাধীনতা খর্ব করার সাধ্য নেই কোন চক্রের, কারো ক্ষমতা নেই দেশের সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করার।
সে দিনের সেই নতুন ভোর জাতির জন্যে ছিনিয়ে আনে এক উজ্জল ভবিষৎ, পরাভবহীন এক অপূর্ব আত্মপ্রত্যয়। সিপাহী জনতার মিলিত আবেগ, উল্লাস, জয়ধ্বনি, আনন্দের কল-কল্লোল, সহস্র কণ্ঠের সেই উচ্চকিত নিনাদ সেদিন ঘোষণা করে সৈনিক ও জনতার একাত্মতা।
বিগত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনে ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক বিপ্লবকে ভুলিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা হয়েছে। এতে অনেকটা সফলও হয়েছিল দুর্বিনীত হাসিনা সরকার। কিন্তু ইতিহাস অমোচনীয় কালিতে লেখা। চাইলেই মুছে ফেলা যায় না। গত বছরের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদী শাসকের পতনে এবার দ্বিতীয় বারের মতো বিপ্লবের চেতনায় দিনটি পালিত হয়েছে। বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাাজিক, সাংস্কৃতি সংগঠন ব্যাপাক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিপ্লব ও সংহতি দিবসের গুরুত্ব নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছে।
এবারের ৭ নভেম্বর অন্যবারের চেয়ে ভিন্ন মেজাজে উদ্যাপন করেঝে বিএনপি। দিনটি উপলক্ষে সারা দেশে দলীয় কর্মসূচির মাধ্যমে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা নানা কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন, দলীয় প্রতীক ধানের শীষের পক্ষে স্লোগানে স্লোগালে মুখরিত করেছেন। যার মধ্য দিয়ে কার্যত বিএনপির নির্বাচনী যাত্রা শুরু হয়েছে। বিভাগীয়, জেলাসহ সারা দেশে আলোচনা অনুষ্ঠান ও শোভাযাত্রার পাশাপাশি জনসভা হয়েছে। এতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারকে প্রাধান্য দিতে দেখা গেছে।
বিএনপি প্রার্থী হিসেবে ২৩৭ জনের প্রাথমিক মনোনয়ন ঘোষণা করেছে। ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’–এর কর্মসূচি থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দলীয় নির্বাচনী প্রতীক ‘ধানের শীষ’-এর পক্ষে প্রচার জোরদারের নির্দেশনা দেওয়া হয় দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে। নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শোভাযাত্রা বের করা হয়। এ ছাড়া ঢাকার বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় সমাবেশসহ জনসংযোগের কর্মসূচির মাধ্যমে শো’ডাউন করেছেন।
দেশ ক্রমশঃ নির্বাচনের পথে অগ্রসর হলেও নানা শঙ্কা ও সংশয় যেন পিছু ছাড়ছে না। জুলাই সনদ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। জামায়াতসহ বেশ কয়েকটি দল জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোটের দাবি ছাড়াও আরও বেশ কিছু দাবি নিয়ে কর্মসূচি পালন করছে। সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙুল বাঁকা করার হুঁশিয়ারি দিচ্ছে। সরকারকে হাঙ্কি মাঙ্কি না করে তাদের দাবি অবিলম্বে মেনে নেওয়ার জন্যে চাপ দিচ্ছে। এমনকি ঢাকায় শক্তি প্রদর্শনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ঢাকা চলে কর্মসূচি পালনের কথা জানিয়েছে।
বিএনপিও এর আগে সরকারের উদ্দেশ্যে হুমকি দিয়ে রেখেছে। জুলাই সনদ ইস্যুতে রাজনীতি সংঘাতে গড়াবে কিনা এমন প্রশ্নের মধ্যে সরকার রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐকমত্যে পৌঁছার জন্যে সময় বেঁধে দিয়েছিল। সে সময়ও এরই মধ্যে শেষ হতে চলেছে। সরকার বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলো নিজেরা মতৈক্যে উপনীত হতে না পারলে সরকার সিদ্ধান্ত দিয়ে দেবে। যতটা অনুমান করা যাচ্ছে- সংসদ নির্বাচন ও গণভোট এক দিনে করার দিকে পা বাড়াবে সরকার। এতে বিএনপি’র মতামত প্রতিফলিত হবে। সে ক্ষেত্রে জামায়াত ও দলটির সমমনারা কী করবেন সেটাই দেখার বিষয়। অবশ্য জামায়াতকে তুষ্ট করতে জুলাই সনদের সুপারিশ অনুযায়ী উচ্চ কক্ষে পিআর পদ্ধতি প্রবর্তন করতে পারে সরকার। সেটা আবার বিএনপি মেনে নিবে কিনা সংশয় রয়ে গেছে।
নির্বাচন নিয়ে আরও চ্যালেঞ্জ আছে। পরিবেশ এখনও নাজুক বলে উঠে আসছে বিভিন্ন মূল্যায়নে। আগামী জাতীয় নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য করতে ৮ দফা সুপারিশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই)। বুধবার ওয়াশিংটন থেকে প্রকাশিত আইআরআইয়ের এক প্রতিবেদনে এসব সুপারিশ করা হয়েছে। আরআইআইয়ের প্রাক্-নির্বাচনী মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বেশ কিছু প্রশংসনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। এসব প্রচেষ্টার পরও প্রাক্-নির্বাচনী পরিবেশ এখনো নাজুক। রাজনৈতিক সহিংসতার বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা, স্থানীয় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি অবিশ্বাসের প্রবণতা এখনো রয়েছে। জনগণের আস্থা বজায় রাখতে ধারাবাহিক যোগাযোগ এবং রাজনৈতিক ও নাগরিক সমাজের অংশীদারদের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ অপরিহার্য বলে মনে করছে আইআরআই ।
আন্তর্জাতিক নীতি ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত একটি প্রাক্-নির্বাচনী মূল্যায়ন মিশন বাংলাদেশে পাঠায় সংস্থাটি। বাংলাদেশে গত ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁরা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেন। নির্বাচনী পরিবেশ ও গণতান্ত্রিক পুনর্জাগরণের সম্ভাবনা মূল্যায়নের উদ্দেশ্যে তাঁরা নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কর্মকর্তা এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাঁরা মোট ২১টি বৈঠকে ৫৯ জন অংশগ্রহণকারীর সঙ্গে আলোচনা করেন। তাদের ৮ দফা সুপারিশ ও মতামত গুরুত্ব বহন করে। দেশের রাজনৈতিক দলগুলোও নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রশাসনের নিরেপেক্ষতা নিয়ে কথা বলছে।
জামায়াত দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করে আগে থেকেই নির্বাচনী প্রচবারণা শুরু করেছে। বিএনপি ২৩৭ আসনে প্রার্থী ঘোষণার পর মনে করা হচ্ছে, তফসিল ঘোষণার আগেই দেশ নির্বাচনী ট্রেনে উঠেছে। তবে সহসাই যেন সে ট্রেন হোঁচট খেয়েছে। অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার নির্বাচনকে যেন চোখ রাঙাচ্ছে। চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপি ঘোষিত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর গণসংযোগে প্রাণহানির ঘটনা এবং খোদ প্রার্থী গুলিবিদ্ধ হওয়াকে সহজভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। গত বুধবার সন্ধ্যায় বিএনপি প্রার্থী গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর একই রাতে রাউজানে দলের দুই পক্ষে গোলাগুলি করেছে।
সংবাদপত্রের খবর অনুযায়ী রাজনৈতিক বিরোধে চট্টগ্রামে গত ১৩ মাসে খুন হয়েছেন ১৫ জন। এর মধ্যে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলেই ১০ জন খুন হয়েছেন। রাজনৈতিক বিরোধের পাশাপাশি বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর দ্বন্দ্বেও চট্টগ্রামে খুনোখুনির ঘটনা বেড়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে এ ধরনের খুনোখুনি ক্রমাগতভাবে বাড়ার আশঙ্কা করার যথেষ্ট কারণ আছে। গত বছরের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের দিন চট্টগ্রাম শহরের আটটি থানা ও আটটি ফাঁড়ি থেকে ৯৪৫টি অস্ত্র লুট হয়েছিল। এর মধ্যে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে ৭৮০টি অস্ত্র। যেসব অস্ত্র উদ্ধার হয়নি, সেসব অস্ত্র নির্বাচনকালে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংসদ নির্বাচনের মাত্র তিন-চার মাস আগে এমন পরিস্থিতিতে শঙ্কিত বিএনপির নেতারাও। বিশেষ করে নির্বাচনী জনসংযোগের সময় বিএনপির প্রার্থীর গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চট্টগ্রামের ঘটনায় বিবৃতিতে দিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতেই এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। আওয়ামী স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠীর পতনের পর দুষ্কৃতকারীরা আবার দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টিসহ নৈরাজ্যের মাধ্যমে ফায়দা হাসিলের অপতৎপরতায় লিপ্ত হয়েছে। মির্জা ফখরুলের বক্তব্য উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। কিন্তু নৈরাজ্যবাদীদের জন্যে পটভূমি তৈরিতে বিএনপি-জামায়াত ও এনসিপি পরোক্ষ ভূমিকা রাখছে কিনা সেটাও মূল্যায়নের দাবি রাখে। গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তিগুলো নিজেদের মধ্যে মতভিন্নতাকে বিরোধ ও সাংঘর্ষিক পর্যায়ে নিয়ে গেলে পতিত শক্তিতো সুযোগ নেবেই।
দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দলগুলো পঁচাত্তরের সাতই নভেম্বর ও চব্বিশের ছত্রিশ জুলাই বা ৫ আগস্টের চেতনাকে ধারণ করে নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলে দলগুলোকেই চড়া মূল্য দিতে হবে। এ দেশের গহীন নদী, নীল বিস্তৃত আকাশ, বৈচিত্র্যময় নিসর্গের মতই স্বাধীনতা এ জাতির প্রিয় উচ্চারণ, বহুল-বাঞ্ছিত প্রাণের ধন। বার বার আগ্রাসী ফ্যাসিস্ট শক্তি এই দেশের উপর লোভ-লালসার চকচকে সবুজ চোখ রেখেছে। জাতি কখনো তাদের বিরুদ্ধে একমন একপ্রাণ হয়ে রুখে দাঁড়াতে দ্বিধা করেনি। এ জাতির বহমান ইতিহাসের ধারায় সাময়িক ব্যর্থতা হয়তো আছে। জগতের কোন জাতির ইতিহাসে তা নেই? কিছুকাল দুঃখ-দুর্ভোগের চিহ্নও হয়তো আছে। কিন্তু রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভুলে জাতি বার বার বিপদগ্রস্ত হয়েছে। আগামী দিনেও রাজনৈতিক নেতৃত্ব ভুল করলে ছাত্র-জনতার কাঠগড়ায় তাদের দাঁড়াতেই হবে।
লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক, কলামিস্ট ও রাজনীতি বিশ্লেষক