আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইসরায়েল আর ‘কখনোই গাজা ত্যাগ করবে না’—এমন মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। একই সঙ্গে তিনি ফিলিস্তিনি ছিটমহলটিতে অবৈধ বসতি পুনঃস্থাপনের ধারণা বিবেচনা করছেন বলে জানান। তাঁর এই বক্তব্য ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত কাৎজকে নিজের অবস্থান থেকে কিছুটা পিছিয়ে আসতে বাধ্য করেছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির বরাত দিয়ে সৌদি আরবের সংবাদমাধ্যম আরব নিউজ জানিয়েছে, মঙ্গলবার অধিকৃত পশ্চিম তীরের বাইত আল বসতিতে ১ হাজার ২০০ নতুন ঘর নির্মাণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। বক্তৃতায় তিনি ২০০৫ সালে ইসরায়েল কর্তৃক পরিত্যক্ত উত্তর গাজার বসতিগুলো পুনর্নির্মাণের অঙ্গীকার করেন।
কাৎজ বলেন, “আমরা গাজার অনেক গভীরে আছি এবং আমরা কখনোই গাজা ছেড়ে যাব না, এমন কিছু ঘটবে না।” তিনি আরও যোগ করেন, “সময় এলে আমরা উত্তর গাজায় উচ্ছেদ হওয়া সম্প্রদায়গুলোর জায়গায় নাহাল আউটপোস্ট (সামরিক-কৃষি ফাঁড়ি) স্থাপন করব।”
বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে ইসরায়েল এবং অধিকৃত অঞ্চলে দেশটির সৈন্যরা যে ধরনের সামরিক-কৃষি ফাঁড়ি স্থাপন করেছিল, মন্ত্রী মূলত সেই ধরনের আউটপোস্টের কথা উল্লেখ করেন। এসব আউটপোস্টের অধিকাংশই পরবর্তীতে স্থায়ী বেসামরিক বসতিতে রূপান্তরিত হয়েছিল।
প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই মন্তব্য প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘোষিত নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। নেতানিয়াহু বারবার বলেছেন, গাজায় পুনরায় বসতি স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা পশ্চিম জেরুজালেমের নেই। কাৎজের বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার সঙ্গেও সরাসরি সংঘাত তৈরি করে। ওই পরিকল্পনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরায়েল গাজা দখল বা সংযুক্ত করবে না এবং পরবর্তী ধাপে ফিলিস্তিনি ছিটমহল থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার করবে।
ইসরায়েলি মন্ত্রীর বক্তব্য বিভিন্ন মহলে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সমালোচকেরা অভিযোগ করেছেন, দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সংকটময় মুহূর্তে তিনি উসকানিমূলক মন্তব্য করেছেন এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের অবজ্ঞা করেছেন। সাবেক চিফ অব স্টাফ গাদি আইজেনকোট এক্সে লিখেছেন, “সরকার যখন এক হাতে ট্রাম্প পরিকল্পনার পক্ষে ভোট দিচ্ছে, তখন অন্য হাতে তারা গাজা উপত্যকায় বিচ্ছিন্ন বসতি স্থাপনের রূপকথা বিক্রি করছে।”
ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার মুখে কাৎজ তাঁর মন্তব্য থেকে কিছুটা সরে আসেন। তাঁর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, গাজা উপত্যকায় বসতি স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। দাবি করা হয়েছে, মন্তব্যগুলো কেবল নিরাপত্তার প্রেক্ষাপটে করা হয়েছিল।