আপ বাংলাদেশের প্রধান সংগঠক নাঈম আহমাদ
মুক্তবাণী অনলাইন : দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন ও ভারতের বিভিন্ন কূটনৈতিক স্থাপনায় হামলার চেষ্টা ও তাণ্ডব প্রতিহত করতে ব্যর্থ হওয়ার দায়ে ঢাকার কাছে দিল্লির প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। পাশাপাশি বিজিবির নাম পরিবর্তন করে বিডিআর পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ)-এর প্রধান সংগঠক নাঈম আহমাদ।
আজ বিকেলে শাহবাগের শহীদ ওসমান হাদি চত্বরে ‘দিল্লিতে ঘোষণা দিয়ে হিন্দুত্ববাদীদের দ্বারা বাংলাদেশ হাইকমিশনে হামলার চেষ্টার প্রতিবাদে’ আয়োজিত ‘বাংলাদেশপন্থীদের বিক্ষোভ’ শীর্ষক প্রতিবাদ সভায় তিনি এ দাবি জানান।
নাঈম আহমাদ বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধারা ভারতে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা নিয়েছিলেন, ফলে ভারত বন্ধু রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু গত ১৬ বছরে গণতন্ত্র হরণ ও ফ্যাসিবাদের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করে ভারত বাংলাদেশকে কার্যত দিল্লির করদ রাজ্যে পরিণত করেছে। পরবর্তীতে ছাত্র-জনতার ব্যাপক প্রতিবাদ ও গণঅভ্যুত্থানের মুখে পতিত শেখ হাসিনাকে দিল্লি আশ্রয় দিয়েছে এবং ভারতে বসে শেখ হাদিনা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সন্ত্রাস ও স্যাবোটাজের উস্কানি দিচ্ছে। সেই স্যাবোটাজকে পুঁজি করে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) ও তাদের যুব সংগঠন বজরং দলের হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসীরা দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে তাণ্ডব চালিয়েছে। এতে স্পষ্ট হয়েছে দিল্লি কার্যত বাংলাদেশের সঙ্গে শত্রুতার ঘোষণা দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনসহ ভারতের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত বাংলাদেশি কূটনৈতিক অঞ্চলে হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারকে কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাতে হবে। সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চাইলে দিল্লিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে ঢাকার কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।
আপ বাংলাদেশের প্রধান সংগঠক বলেন, বিডিআর বিদ্রোহের ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নাম পরিবর্তন করে বিজিবি রাখা হয়েছিল। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গৌরবগাথা ফিরিয়ে আনতে বিডিআরের নাম পুনর্বহাল করতে হবে। একই সঙ্গে বিডিআর, সেনাবাহিনীসহ সব বাহিনীকে প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জামে সমৃদ্ধ করে একটি শক্তিশালী জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। সরকারকে দিল্লির সঙ্গে মর্যাদাপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়ন করতে হবে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে অভিনন্দন জানিয়ে নাঈম আহমাদ বলেন, দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের ওপর যে হিন্দুত্ববাদী বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) তাণ্ডব চালিয়েছে, তাদের বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের বর্তমান মহাসচিব কপিল কৃষ্ণ মণ্ডলকে বাগেরহাট-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী করেছে। একইভাবে বাগেরহাট-২ আসনে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সাবেক সভাপতি সোমনাথ দে-কে প্রার্থী করা হয়েছে। দিল্লির এজেন্ট শেখ হাসিনা এদের ইউনিয়ন বা উপজেলা পর্যায়ের উপরে পদ দেয়নি, অথচ বিএনপি তাদের সংসদে নিয়ে আসতে চাইছে—এটি উদ্বেগজনক। তারেক রহমানকে ভুল বুঝিয়ে কেউ বাংলাদেশে হিন্দুত্ববাদীদের পুনর্বাসন করছে কি না, সে বিষয়ে বিএনপিকে স্পষ্ট করতে হবে। বিএনপি এ বিষয়ে পরিষ্কার অবস্থান নিতে পারলে আসন্ন নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হতে পারে।
প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অর্থ কমিটির প্রধান সিবগাতুল্লাহ তকি, যুগ্ম প্রধান সংগঠক হাসানউল্লাহ, আবরার হামিম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব কাজী সালমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা সরকারের কাছে ভারতের সঙ্গে মর্যাদাপূর্ণ ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক স্থাপনের জোর দাবি জানান।