শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১০ শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

জান্তাশাসিত মিয়ানমারে ৫ বছর পর জাতীয় নির্বাচন শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বাংলাদেশের প্রতিবেশী মিয়ানমারে অবশেষে জাতীয় পার্লামেন্ট নির্বাচন শুরু হয়েছে। ২০২১ সালে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের প্রায় পাঁচ বছর পর এটাই দেশটির প্রথম জাতীয় ভোটগ্রহণ।

মিয়ানমারের নির্বাচন কমিশনের বরাতে এএফপি জানিয়েছে, তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হবে এ নির্বাচন। আজ ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে আগামী ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ। প্রথম ধাপে রাজধানী নেইপিদো, বাণিজ্যিক রাজধানী ইয়াঙ্গুন, দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়সহ জান্তানিয়ন্ত্রিত কয়েকটি শহর ও গ্রামাঞ্চলে ভোট চলছে। স্থানীয় সময় সকাল ৬টা (বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা ৩০ মিনিট) থেকে শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ। জাতীয় পার্লামেন্ট ও প্রাদেশিক আইনসভার জন্য একসঙ্গে ভোট নেওয়া হচ্ছে।

তবে বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চল ও প্রদেশগুলোতে ভোট হচ্ছে না।

মিয়ানমারে সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০২০ সালের নভেম্বরে। সে নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় অর্জন করেছিল গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চি’র নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি)। কিন্তু নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এনএলডি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে সামরিক বাহিনী। সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লেইং এ অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেন।

অভ্যুত্থানের পরপরই সু চিসহ এনএলডির অধিকাংশ কেন্দ্রীয় নেতা, এমপি-মন্ত্রী এবং হাজার হাজার কর্মীকে গ্রেপ্তার করে সেনারা। তারা এখনও কারাগারে বন্দি। সু চির বিরুদ্ধে দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে, যা প্রমাণিত হলে তার ১৫০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। ২০২৩ সালে জান্তাশাসিত নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে এনএলডিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করে।

ফলে এবারের নির্বাচনে এনএলডি নেই। ২০২০ সালের নির্বাচনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ দলও এবার ভোট বর্জন করেছে। নির্বাচনী ময়দানে এখন সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে রয়েছে সামরিক বাহিনীর সমর্থনপুষ্ট ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি। ধারণা করা হচ্ছে, ভোট শেষে তারাই সরকার গঠন করবে।

অন্যদিকে জান্তা ক্ষমতা দখলের ছয় মাস পর থেকেই মিয়ানমারে বিভিন্ন জান্তাবিরোধী সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠীর উত্থান ঘটে। ২০২৩ সাল থেকে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘাতে এসব গোষ্ঠী অধিকাংশ ক্ষেত্রে জয়ী হয়ে সেনাদের পিছু হটতে বাধ্য করে। বর্তমানে বাংলাদেশসংলগ্ন রাখাইনসহ প্রায় ৩৩ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে আরাকান আর্মি, কারেন লিবারেশন ফোর্সসহ একাধিক বিদ্রোহী সংগঠন। এ কারণে অন্তত পাঁচটি প্রদেশে ভোটগ্রহণ হচ্ছে না।

সু চির ছেলে কিম অ্যারিস, যিনি ব্রিটেনে বসবাস করেন, এএফপিকে বলেন, “এটা একটা অর্থহীন নির্বাচন। আমার মা এবং মিয়ানমারের অধিকাংশ জনগণ এমনটাই মনে করেন।”