আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মিয়ানমারে স্বাধীনতার ৭৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে ছয় হাজারের বেশি বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির জান্তা সরকার। পাশাপাশি অন্য বন্দিদের সাজা কমানোরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে রাজনৈতিক বন্দিরা থাকবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এ ধরনের বন্দিদের অধিকাংশই সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার কারণে আটক হয়েছিলেন।
শনিবার (৪ জানুয়ারি) মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এমআরটিভি জানায়, সামরিক সরকারের প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং ৫ হাজার ৮৬৪ জন মিয়ানমারের নাগরিক এবং ১৮০ জন বিদেশি বন্দির জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছেন। মুক্তিপ্রাপ্ত বিদেশিদের মধ্যে চারজন থাইল্যান্ডের মৎস্যজীবী থাকতে পারেন, যারা গত নভেম্বরের শেষের দিকে মিয়ানমার নৌবাহিনীর হাতে আটক হয়েছিলেন।
মুক্তির শর্ত অনুযায়ী, যদি মুক্তি পাওয়া বন্দিরা আইন ভঙ্গ করেন, তবে তাদের মূল সাজার বাকি অংশ ছাড়াও নতুন সাজা ভোগ করতে হবে। এছাড়া ১৪৪ জন বন্দির প্রাণদণ্ড কমিয়ে ১৫ বছরের কারাদণ্ডে রূপান্তর করা হয়েছে।
জান্তা প্রশাসন মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দিদের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে জানা গেছে, অনেক বন্দি প্রতিবাদ সম্পর্কিত অভিযোগে আটক রয়েছেন। মুক্তির প্রক্রিয়া শনিবার শুরু হলেও তা সম্পন্ন হতে কয়েকদিন সময় লাগতে পারে। এরই মধ্যে ইয়াঙ্গুনের ইনসেইন কারাগারের সামনে ভিড় করতে শুরু করেছেন বন্দিদের আত্মীয়রা।
রাজনৈতিক বন্দিদের সহায়তা সংগঠন অ্যাসিসটেন্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনারস জানিয়েছে, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে ২৮ হাজার ৯৬ জনকে রাজনৈতিক অভিযোগে আটক করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ২১ হাজার ৪৯৯ জন এখনো বন্দি।
মিয়ানমার ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করে। শনিবার রাজধানী নেপিদোতে বর্তমান সামরিক সরকার স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে।