শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১০ শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

এলএ দাবানলের ক্ষত সারছে ধীরে, পুনর্গঠনে সংগ্রাম অব্যাহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : লস অ্যাঞ্জেলেসের আলটাডেনা পাহাড়ি এলাকায় ভয়াবহ দাবানলের এক বছর পরও পুনর্গঠনের সংগ্রাম চলছে। আগুনে নিজের ঘর হারানো টেড কোয়ার্নার নতুন বাড়িতে উঠেছেন সম্প্রতি। কুকুর ডেইজিকে সঙ্গে নিয়ে নতুন ঘরে প্রবেশের সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। এএফপিকে বলেন, “এই এক বছরে আমরা অনেক কিছু পার করেছি।”

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অংশে দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় আলটাডেনা, যেখানে হাজার হাজার ঘর পুড়ে যায় এবং প্রাণ হারান ১৯ জন। অভিজাত প্যাসিফিক প্যালিসেডস এলাকায় মারা যান আরও ১২ জন।

৬৭ বছর বয়সী কোয়ার্নার জানান, নতুন বাড়ি নির্মাণে তাঁকে কয়েক লাখ ডলার আগাম দিতে হয়েছে। মর্টগেজ ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান মাসের পর মাস বীমার অর্থ ছাড় করেনি। ইস্পাত, কাঠ ও সিমেন্টের ওপর শুল্ক আরোপে নির্মাণ ব্যয় বেড়েছে। লাতিনো শ্রমিকদের মধ্যে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা আইসিইর হাতে গ্রেফতারের ভয়ও কাজ করছে। তিনি বলেন, “আইসিই যদি নির্মাণদল ধরে নিয়ে যায়, তার ওপর ট্রাম্পের শুল্ক—সব মিলিয়ে এই শহর আর কখনো গড়ে তোলা যাবে না।”

তবু ধীরে ধীরে প্রাণ ফিরছে আলটাডেনায়। ফাঁকা প্লটের ফাঁকে ফাঁকে নতুন কাঠামো মাথা তুলতে শুরু করেছে। গত জানুয়ারিতে ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার গতির ঝোড়ো হাওয়া দাবানলকে ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে দিয়েছিল। সেই স্মৃতি এখনো টাটকা। তবু জলবায়ু পরিবর্তনের স্থায়ী হুমকি সত্ত্বেও বাসিন্দারা এলাকা ছাড়তে চান না।

আরেক বাসিন্দা, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ক্যাথরিন রিডার বলেন, “কোথায় যাবেন? আশপাশে এমন কোনো জায়গা নেই, যা ভয়াবহ আবহাওয়ার ঝুঁকিমুক্ত।” তাঁর বাড়ির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। আশা করছেন আগস্টের মধ্যে উঠতে পারবেন। কারণ, সজ্জিত অ্যাপার্টমেন্টে তাঁর মাসিক ভাড়া ৪ হাজার ডলার। বীমা থেকে পাওয়া আবাসন ভাতা শেষ হওয়ার আগেই তিনি নতুন ঘরে যেতে চান।

ক্যালিফোর্নিয়ার প্রশাসন প্রক্রিয়া দ্রুত করতে কিছুটা সরল করেছে। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি এখন কয়েক মাসের মধ্যেই নির্মাণ অনুমতি দিচ্ছে, যা আগে এক বছরেরও বেশি সময় লাগত। তবে নতুন ভবন বিধিমালা মানা হচ্ছে কি না—যেমন ছাদে অগ্নিনির্বাপণ স্প্রিংকলার বসানো—এসব যাচাইয়ের পরিদর্শনে দেরি হওয়ায় হতাশ রিডার। তিনি বলেন, “অরাজকতা আর দেরি অনেক বেশি। আগের চেয়ে হয়তো দ্রুত, কিন্তু একেবারেই সহজ মনে হয় না।”

তিনি আরও বলেন, “আমি জানি, যারা কম বীমা পেয়েছেন, তাদের তুলনায় আমি অনেক ভালো অবস্থায় আছি।”