শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১০ শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

গভীর সমুদ্রে গবেষণা ও সমস্যা চিহ্নিতকরণে গুরুত্ব প্রধান উপদেষ্টার

নিজস্ব প্রতিবেদক : বঙ্গোপসাগরের তলদেশে প্লাস্টিকের উপস্থিতি এবং জেলিফিশের অস্বাভাবিক আধিক্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্থলভাগের সমপরিমাণ অঞ্চল জলভাগ হলেও এই বিপুল সম্পদ এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ ও ইকোসিস্টেম-সংক্রান্ত এক গবেষণা প্রতিবেদন গ্রহণকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

গবেষণা জাহাজ ‘আরভি ডক্টর ফ্রিডজফ ন্যানসেন’ কর্তৃক পরিচালিত জরিপ ও গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করে সংশ্লিষ্ট কমিটি। গত বছরের ২১ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আটটি দেশের ২৫ জন বিজ্ঞানীর অংশগ্রহণে এ জরিপ পরিচালিত হয়, যার মধ্যে ১৩ জন ছিলেন বাংলাদেশি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস-এর অধ্যাপক সায়েদুর রহমান চৌধুরী বৈঠকে গবেষণা উপাত্ত উপস্থাপন করেন।

তিনি জানান, গবেষণায় ৬৫ প্রজাতির নতুন জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব পাওয়া গেলেও পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতার চিত্র স্পষ্ট হয়েছে। অধ্যাপক সায়েদুর বলেন, “বাংলাদেশে গভীর সমুদ্রে জেলিফিশের আধিক্য মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে গেছে। এটি ভারসাম্যহীনতার লক্ষণ, যা ওভারফিশিংয়ের কারণে হয়েছে।” এছাড়া দুই হাজার মিটার গভীরতায়ও প্লাস্টিক পাওয়া গেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ২০১৮ সালের গবেষণার তুলনায় দেখা গেছে, গভীর সমুদ্রে বড় মাছের সংখ্যা কমছে এবং স্বল্প গভীরতায়ও মাছের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে।

বৈঠকে জানানো হয়, গভীর সমুদ্রে ২৭০ থেকে ২৮০টি বড় ট্রলার মাছ আহরণ করলেও এর মধ্যে প্রায় ৭০টি ট্রলার ‘সোনার’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ‘টার্গেটেড ফিশিং’ করছে। এ প্রসঙ্গে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, “এভাবে টার্গেটেড ফিশিং হলে বঙ্গোপসাগর মাছশূন্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সোনার ফিশিং নিয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।”

তবে গবেষণায় টুনা মাছের আধিক্য ও সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া সুন্দরবনের নিচে একটি ‘ফিশিং নার্সারি’র সন্ধান পাওয়া গেছে, যা সংরক্ষণে সরকার নির্দেশ দিয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা তার বক্তব্যে বলেন, সামুদ্রিক সম্পদকে কাজে লাগাতে পর্যাপ্ত গবেষণা ও নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন। বৈঠকে জানানো হয়, যুক্তরাজ্যের রয়েল নেভির একটি বহুমুখী সার্ভে ভেসেল ‘এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ’ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে, যা সমুদ্র গবেষণায় সক্ষমতা বাড়াবে। তিনি জাপান, ইন্দোনেশিয়া ও মালদ্বীপের সঙ্গে যৌথ গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, বিশেষজ্ঞ জ্ঞানের সমন্বয়েই অর্থনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচন সম্ভব।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী ও মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ড. মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।