খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি : সেনাবাহিনীর সদস্যদের ১৩ দিনের অক্লান্ত পরিশ্রমে ভূ-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৬০০ ফিট উপরে খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার দূর্গম ইন্দ্রসিংপাড়া, শুকনাছড়ি, পাংকুপাড়া ও হাতিছড়া গ্রামের প্রায় ২ হাজার মানুষের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত হয়েছে।
সেনা সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে খাগড়াছড়ি সদর ও গুইমারার রামেসু বাজারসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপের সন্ত্রাসী কার্যক্রম বিরোধী অভিযান শুরু হলে দূর্গম গ্রামে পানি সংকটের বিষয়টি নজরে আসে। পরবর্তীতে ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি’র তত্ত্বাবধানে ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩ হাজার ৬ শ ফুট উপরের কালাপাহাড় রেঞ্জের প্রাকৃতিক উৎস থেকে ৭ কিলোমিটার পাইপ লাইনের মাধ্যমে ৪ গ্রামে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়। সেনাবাহিনীর এমন উদ্যোগের প্রশংসা করছেন জনপ্রতিনিধি ও উপকারভোগী গ্রামবাসী
খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার দূর্গম শুকনাছড়ি, ইন্দ্রসিংপাড়াসহ ১০ টিরও বেশী গ্রােেম যাতায়াত ও পানির প্রধান উৎস ছোট ধুরুং খাল। বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন ছাড়া থেকে গ্রামবাসী গৃহস্থলী ও খাবারের পানি পেয়ে থাকলেও মাঘ থেকে বৈশাখ মাস পর্যন্ত শুষ্ক সময়ে সংকটে পড়েন।
চলতি মৌসুমে সে সংকট উত্তরণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৬০০ ফিট উপরে দুই পাহাড়ের মাঝের একটি ক্যানেল (ভ্যালি) এর প্রাকৃতিক পানির উৎস থেকে কোন প্রকার বিদ্যুৎ বা মোটরের সাহায্য ছাড়াই ৪ টি গ্রামে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
মূলত: ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে খাগড়াছড়ি সদর ও গুইমারার রামেসু বাজারসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপের সন্ত্রাসী কার্যক্রম বিরোধী অভিযান শুরু হলে এ সন্ত্রাসী সংগঠনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম বিরোধী অভিযানে গিয়ে ঐ দুর্গম এলাকায় পানির সংকট নজরের বিষয়টি আসে। এরপর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও গুইমারা রিজিয়নের তত্বাবধানে কালাপাহাড় রেঞ্জের প্রাকৃতিক পানির উৎস থেকে পানি সরবরাহের উদ্যোগ নেয়া হয়। লক্ষ্মীছড়ি জোনের কর্মকর্তা ও সদস্যদের ১৩ দিনের প্রচেষ্টায় নানা প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে অবশেষে সফলতা এসেছে। প্রায় ৭ কিলোমিটার পাইপ লাইনের মাধ্যমে ইন্দ্রাসিংপাড়া, শুকনাছড়ি, পাংকুপাড়া ও হাতিছড়ার ৪ টি পয়েন্টে সংরক্ষণাগার তৈরী করে দেয়া হয়েছে। যদিওবা সরকারি ভাবে একাধিক বার উদ্যোগ নেয়া হলেও ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীদেরে বাঁধার মুখে আলোর মুখ না দেখলেও অবশেষে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে সফলতায় খুশি স্থানীয় বাসিন্দারা।
লক্ষ্মীছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রবিল কুমার চাকমা সেনাবাহিনীর এমন মহতি উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।
লক্ষ্মীছড়ি জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্ণেল তাজুল ইসলাম জানান, ইউপিডিএফ’র উন্নয়ন বিরোদী কর্মকান্ডের কারণে এ দূর্গম এলাকার মানুষ বঞ্চিত। ৭ কিলোমিটার পাইপ লাইনের মাধ্যমে ইন্দ্রাসিংপাড়া, শুকনাছড়ি, পাংকুপাড়া ও হাতিছড়ার ৪ টি পয়েন্টে সংরক্ষণাগার তৈরী করে দেয়া হয়েছে। এতে করে ৩শ ৭৬ পরিবার উপকৃত হয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কর্মকান্ড চালিয়ে গেলেও কু-চক্রী মহল সেনাবাহিনীকে জড়িয়ে নানা ধরণের অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে।