নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে ইউরোপীয় এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের পরিচালক পাওলা পাম্পালোনি সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
আজ সকালে বসুন্ধরাস্থ কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। পাওলা পাম্পালোনির নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধি দলে ছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার এবং ইউরোপীয় এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের উপ-প্রধান মনিকা বাইলাইতে।
এ সময় জামায়াতের আমীরের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দলের নায়েবে আমীর ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির এবং পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসান।
সাক্ষাৎ শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের জানান, প্রায় ঘণ্টাব্যাপী আলোচনায় মূল বিষয় ছিল আসন্ন নির্বাচন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন জরুরি। ৫৫ বছর ধরে সংকটের অন্যতম কারণ হচ্ছে সুষ্ঠু নির্বাচনের অভাব।”
তিনি আরও বলেন, “আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে দেশে নতুন করে সংকট তৈরি হবে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন যেভাবে একটি দলের প্রতি আনুগত্য দেখাচ্ছে, তাতে পাতানো নির্বাচনের আশঙ্কা রয়েছে।”
তাহের জানান, ইইউ প্রতিনিধি দল বলেছেন তারা সর্বোচ্চ সংখ্যক পর্যবেক্ষক পাঠাবেন। তিনি বলেন, “নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার জন্য যা করার দরকার, জামায়াত তা করবে।”
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইইউ হচ্ছে রোহিঙ্গাদের সর্বোচ্চ দাতা। তারা এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াত জানিয়েছে, ক্ষমতায় গেলে সকল স্টেকহোল্ডারকে নিয়ে স্থায়ী সমাধান করা হবে।
জাতীয় সরকার প্রসঙ্গে বিএনপির সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়েছে কি-না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার বিষয়েই গুরুত্ব দিচ্ছি।”
প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণ নিয়ে তিনি বলেন, “সচেতন নাগরিক হিসেবে আপনারাও এগুলো দেখছেন।” নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “সেই পর্যায়ে যেতে হবে না বলেই মনে করছি।”