শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১০ শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

বাংলাদেশ-চীন নজরদারিতে হলদিয়ায় নতুন নৌ-ঘাঁটি করছে ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বাংলাদেশ এবং চীনকে নজরদারির আওতায় রাখতে নতুন নৌঘাঁটি নির্মাণ করছে ভারতের নৌবাহিনী। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বন্দরশহর হলদিয়ায় স্থাপন করা হবে এই ঘাঁটি।

ভারতের নৌবাহিনীর একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা দেশটির সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টু-ডেকে জানিয়েছেন, সম্প্রতি বঙ্গোপসাগরের উত্তরদিকে চীনা নৌবাহিনীর তৎপরতা বেড়েছে। একই সময়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সেনাবাহিনী কাছাকাছি আসছে। বাংলাদেশের উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তারা সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকবার পাকিস্তান সফর করেছেন। এসব বিষয় বিবেচনায় রেখেই নতুন নৌঘাঁটি তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা থেকে ঘাঁটিটির দূরত্ব হবে প্রায় ১০০ কিলোমিটার। হলদিয়ায় নৌঘাঁটি স্থাপন করা হলে হুগলি নদী থেকে অল্প সময়ের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে পৌঁছাতে পারবে ভারতীয় নৌ সেনারা। নৌঘাঁটি তৈরির ক্ষেত্রে হলদিয়ার ডক কমপ্লেক্সকে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে একদিকে অপারেশনে সুবিধা হবে, অন্যদিকে অতিরিক্ত অবকাঠামো তৈরির প্রয়োজনও পড়বে কম।

ভারতীয় নৌবাহিনীসূত্রে জানা গেছে, নতুন ঘাঁটিতে মোতায়েন করা হবে ফাস্ট ইন্টারসেপ্টর ক্রাফটস (এফআইসি) এবং নিউ ওয়াটার জেট ফাস্ট অ্যাটাক ক্রাফটস (এনডব্লিউজেএফএসি)-এর মতো দ্রুতগামী সামরিক নৌযান ও যুদ্ধজাহাজ। এসব নৌযানের গতি ঘণ্টায় ৭৪ দশমিক ০৮ থেকে ৮৩ দশমিক ৩৪ কিলোমিটার।

এফআইসি এবং এনডব্লিউজেএফএসি সিরিজের যুদ্ধজাহাজগুলো বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগতির সামরিক নৌযান। এগুলোকে সমৃদ্ধ করা হবে সিআরএন-৯১ স্বয়ংক্রিয় মেশিনগান এবং ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি সুইসাইডাল ড্রোন নাগাস্ত্র সিস্টেমসহ বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্রে।

প্রস্তাবিত নতুন ঘাঁটিতে সার্বক্ষণিকভাবে থাকবেন ১০০ জন সেনা কর্মকর্তা ও সৈনিক। মূলত বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরে চীনের উপস্থিতি বৃদ্ধি, বাংলাদেশ-চীনের সামরিক সহযোগিতা সম্পর্কিত সাম্প্রতিক চুক্তি এবং পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের কারণে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে এই নৌঘাঁটি তৈরি করছে ভারত।