শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১০ শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

ধর্মীয় বক্তব্যে প্রচারণা, জামায়াত প্রার্থী ফয়জুলকে শোকজ

ঝালকাঠি প্রতিনিধি : নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর–কাঠালিয়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর নেতা ড. ফয়জুল হককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি।

কমিটির প্রধান ও যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ (দ্বিতীয় আদালত) রেজওয়ানা আফরীন স্বাক্ষরিত স্মারক নং–০৩ /নোটিশ মূলে গত ৯ জানুয়ারি এ নোটিশ জারি করা হয়।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬-এ প্রার্থী হওয়ার পরও ড. ফয়জুল হক নির্ধারিত সময়ের পূর্বে নির্বাচনী প্রচারণা চালান এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এমন বক্তব্য দিয়ে ধর্মকে ব্যবহার করে ভোট প্রার্থনা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কমিটির নিকট প্রাপ্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য, সংবাদ প্রতিবেদন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ৭ জানুয়ারি রাতে রাজাপুর উপজেলায় অনুষ্ঠিত একটি নির্বাচনী উঠান বৈঠকে তিনি জনসমক্ষে এমন বক্তব্য দেন, যা ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

ওই বক্তব্যটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয় এবং ‘Fayzul Huq The Youth Leader of Bangladesh’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। সেখানে তাঁকে প্রকাশ্যে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করতে দেখা যায় বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

নোটিশে বলা হয়েছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা, ২০২৫-এর উপবিধি ১৫ (ক), বিধি ১৬ এর উপবিধি (ঙ) এবং বিধি ১৮-এর বিধান সুস্পষ্টভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে। এ কারণে কেন তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিবেদন বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে প্রেরণ করা হবে না—সে বিষয়ে আগামী ১২ জানুয়ারি সকাল ১১টায় ঝালকাঠি জেলা জজ আদালত ভবনের দ্বিতীয় তলায় যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ (দ্বিতীয় আদালত)-এর কার্যালয় কক্ষ নং–২০৬-এ সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রার্থী ফয়জুল হক বলেন, “আমি নোটিশ পেয়েছি। আমাকে ১২ জানুয়ারি সশরীরে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। আমি আইনের প্রতি সব সময় শ্রদ্ধাশীল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নোটিশের জবাব দেব।”

উল্লেখ্য, ফয়জুল হক নিজের বক্তব্যে বলেন, “শোনেন, আমি তো গল্পের ছলে বলি, তাই বলার কারণে আপনাদের আনন্দ লাগতেছে। কিন্তু এমনও হইতে পারে, আমার ভাই হয়তো কখনো ইবাদত করার সুযোগ পায় নাই; ওই সুখটান দেওয়া বিড়ির মধ্যেও যদি সে ওই দাঁড়িপাল্লার দাওয়াত দিয়া আল্লাহর দ্বারে কবুল হইয়া যায়, এমনও হইতে পারে, পেছনের সব মাফ কইরা দিয়া আল্লাহ তারে তো ভালোও কইরা দিতে পারে। অতএব, যেকোনো অবস্থাতেই বসে থাকবেন না।” তিনি আরও বলেন, “জীবনে কোনো ইবাদত না করেও কেউ যদি বিড়ি (সিগারেট) টেনে দাঁড়িপাল্লার দাওয়াত দেয় এবং তা আল্লাহ কবুল করেন, তাহলে তার পেছনের সব গুনাহ মাফ হতে পারে।”