নিজস্ব প্রতিবেদক : জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে যোগ দেওয়ায় ব্যর্থতা স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সিটিজেনম প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত ‘জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ ও নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে তিনি প্রকাশ্যে ক্ষমা চান।
এবি পার্টি জনমানুষের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে স্বীকার করে মঞ্জু বলেন, “একটি নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা আপনাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারিনি। নির্বাচনী রাজনীতির উত্তাপে আমাদের একটি বড় রাজনৈতিক জোটে যোগ দিতে হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে আপনাদের অনেকেই কষ্ট পেয়েছেন। আমি আপনাদের কাছে ক্ষমা চাই।”
এ সময় তিনি উপস্থিতদের কাছে জানতে চান, তার ক্ষমা গ্রহণ করা হয়েছে কি না। উত্তরে সমস্বরে ‘না’ ধ্বনি ওঠে। এর প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “যখন কেউ ক্ষমা চায়, তখন ক্ষমা করা উচিত। ক্ষমা না করা এখন একটি নেতিবাচক সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে।”
জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মঞ্জু বলেন, নির্বাচনী বাস্তবতা ছোট দলগুলোর জন্য অত্যন্ত কঠিন। বড় দলের সঙ্গে জোট না করলে ছোট দলগুলোর টিকে থাকা কঠিন। তবু জামায়াতের জোটে যোগ দেওয়ার দায়ের ৬০ শতাংশ নিজেদের ওপরই নিচ্ছেন তিনি।
সিটিজেনস প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের প্রশ্নে কেন এবি পার্টি নতুন কোনো রাজনৈতিক বন্দোবস্ত গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে, জবাবে মঞ্জু বলেন, একটি ছোট দল হিসেবে তাদের সেই সামর্থ্য ছিল না। ভোটকেন্দ্রে এজেন্ট দেওয়া থেকে শুরু করে পুরো নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা এককভাবে করা সম্ভব হয়নি।
হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, দলের নেতাকর্মীরা নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্রূপের শিকার হচ্ছেন। মানুষ ঠাট্টা করে বলে, সবাই মিলেও কি ১০০ ভোট পাবে? আমরা আদৌ দল গঠন বা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার যোগ্য কি না—এমন প্রশ্ন তোলে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া তাসনিম জারার প্রসঙ্গ টেনে মঞ্জু বলেন, সবার ক্ষেত্রে এমন সুযোগ থাকে না। জারার আলাদা পটভূমি ও শক্তিশালী মিডিয়া সমর্থন থাকলেও তিনি এক শতাংশ সমর্থনও নিশ্চিত করতে পারেননি। যাদের এ ধরনের সুবিধা নেই, তারা চাইলেও দল ছেড়ে একা নির্বাচনে দাঁড়াতে পারেন না।
গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে এবি পার্টি অনানুষ্ঠানিকভাবে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেয়। এর আগে এনসিপি ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) আনুষ্ঠানিকভাবে জোটে যোগ দেয়। এতে শরিকের সংখ্যা দাঁড়ায় ১১টিতে। মঞ্জু আসন্ন নির্বাচনে ফেনী-১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এবং ইতোমধ্যে এলাকায় প্রচারণা শুরু করেছেন।