শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১০ শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

২০২৫ সালে সড়কে মৃত্যু ১০০৮ শিশুর

মুক্তবাণী ডেস্ক : বিদায়ী ২০২৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় এক মাস থেকে ১৭ বছর বয়সী মোট ১ হাজার ৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী, চালক ও হেলপার হিসেবে নিহত হয়েছেন ৫৩৭ জন শিশু। আর পথচারী হিসেবে বিভিন্ন যানবাহনের চাপা বা ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪৭১ জন।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রোড সেফটি ফাউন্ডেশন প্রকাশিত সড়ক দুর্ঘটনা সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনটি সংগঠনটির নিজস্ব তথ্য এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পথচারী হিসেবে বাস ও পণ্যবাহী যানবাহনের চাপা বা ধাক্কায় নিহত হয়েছেন ১৮৭ জন শিশু। প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স ও জিপের চাপা-ধাক্কায় নিহত হয়েছেন ৩২ জন। থ্রি-হুইলার ও নছিমন-ভটভটির চাপা-ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৯৮ জন এবং বেপরোয়া মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নিহত হয়েছেন ৫৪ জন শিশু।

সড়কের ধরন অনুযায়ী বিশ্লেষণে দেখা যায়, মহাসড়কে নিহত হয়েছেন ২৮১ জন, আঞ্চলিক সড়কে ৩৬৪ জন, গ্রামীণ সড়কে ২৯১ জন এবং শহরের সড়কে ৭২ জন শিশু।

সময়ভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দুপুরে সবচেয়ে বেশি ২৮৩ জন, সকালে ২৬৯ জন এবং বিকেলে ২৬১ জন শিশু দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন।

শিশুমৃত্যুর হার বৃদ্ধির কারণ হিসেবে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন উল্লেখ করেছে- দেশের সড়ক ও সড়ক পরিবহন শিশুবান্ধব না হওয়া; শিশুদের মধ্যে সড়ক ব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতার অভাব; পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সড়ক ব্যবহার বিষয়ে পরামর্শ ও প্রশিক্ষণের ঘাটতি; অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকের হাতে যানবাহন চালানো; দুর্ঘটনায় আহত শিশুদের উপযুক্ত চিকিৎসা ব্যবস্থার সংকট এবং চিকিৎসায় পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতা।

দুর্ঘটনা কমাতে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ছয়টি সুপারিশ করেছে। এগুলো হলো—

  • সড়ক ও সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা শিশুদের জন্য নিরাপদ করা,
  • পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপদে সড়ক ব্যবহার বিষয়ে সচেতন করা,
  • অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালক দিয়ে যানবাহন চালানো বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ,
  • জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার সুযোগ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি,
  • দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসায় বিশেষ সরকারি তহবিল গঠন,
  • সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ কঠোরভাবে বাস্তবায়ন।