নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়েও শেষ মুহূর্তে আটকে গেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের আসন সমঝোতা। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অসন্তোষে জোট নিয়ে আবারও অনিশ্চয়তার আভাস মিলছে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ঘনিয়ে এলেও আসন বণ্টন নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো যাচ্ছে না।
গতকাল বুধবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে আসন সমঝোতার চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করা হয়। ঘোষণার নতুন তারিখও নির্দিষ্ট করা হয়নি।
এই জটিলতার মধ্যেই নতুন জোটের ইঙ্গিত দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান। তিনি বলেন, ২০ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন, আর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি। ওই সময়ের আগপর্যন্ত যেকোনো পরিবর্তন ঘটতে পারে।
১১ দলের জোটে দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে শুরু থেকেই শতাধিক আসনের প্রত্যাশা করেছিল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। তবে জোটের সিদ্ধান্তে প্রত্যাশার অর্ধেকেরও কম আসন দেওয়ার প্রস্তাব উঠলে দলটি আপত্তি জানায়। তাদের দাবি, ১৪০টির বেশি আসনে ‘এ’ গ্রেড প্রার্থী রয়েছে। ফলে অন্তত অর্ধশত আসনের বেশি তাদের সর্বশেষ প্রত্যাশায় ছিল।
আতাউর রহমান বলেন, আশা করা হয়েছিল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু এখনো তা হয়নি। তিনি জানান, দলের সব স্তরের নেতাদের মতামত নেওয়া হয়েছে, মাঠের তথ্য ও প্রার্থীদের বক্তব্য শোনা হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে মজলিসে আমেলার বৈঠকও হয়েছে।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জামায়াতের আমির জাতীয় সরকার ও ঐক্যের প্রসঙ্গ তোলায় ইসলামী আন্দোলনের ভেতরে সংশয় তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি। তার ভাষায়, “এটা ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে একটু সংশয় তৈরি করেছে, জামায়াত কি জাতীয় পার্টির মতো ভূমিকা পালন করবে?”
ইসলামী আন্দোলন এককভাবে নির্বাচনে যাবে কি না, এ বিষয়ে তিনি বলেন, এখনো স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। অনেকের সঙ্গেই আলোচনা চলছে।
অন্যদিকে মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসও আসন বণ্টন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। দলটি ২৫ থেকে ৩০টি আসন চাইলে জামায়াত সর্বোচ্চ ২০টি আসনে ছাড় দিতে রাজি। কাঙ্ক্ষিত আসন না পেলে কিছু আসনে প্রার্থী উন্মুক্ত রাখার চিন্তাও করছে দলটি।
খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে জামায়াতের টানাপোড়েন চলছে। যদি ইসলামী আন্দোলন জোট থেকে বেরিয়ে যায়, তাহলে তাদেরও জোটে থাকার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে হবে।
তবে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা পুরোপুরি ভেস্তে গেছে, এমন পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। গাজী আতাউর রহমান বলেন, নির্বাচনী আসন সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়া বা কাউকে বের করে দেওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়নি। জাতীয় ঐক্য টিকিয়ে রাখতে ন্যূনতম সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যাবে ইসলামী আন্দোলন।
তিনি আরও স্পষ্ট করেন, চাপিয়ে দেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত ইসলামী আন্দোলন মেনে নেবে না। অতীতে যেমন তারা এ ধরনের রাজনীতি করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না। কেউ ইসলামী আন্দোলনকে অবহেলা করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।
জোটের ভেতরে বিভ্রান্তি তৈরিতে জনমত জরিপের অপব্যবহারের অভিযোগও তোলেন তিনি। বলেন, অনেকেই সমীক্ষাকে মানদণ্ড ধরছেন। মানুষ বোঝে এসব জরিপ কারা করছে। এগুলো বেইনসাফির পথ উন্মুক্ত করছে। ভাঁওতাবাজি জরিপ দিয়ে নির্বাচনের পথরেখা নির্ধারণ করলে সেখানে বিপর্যয় ঘটবে।