শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১০ শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

গণমাধ্যম সম্মিলনে স্বাধীন সাংবাদিকতায় ঐক্যের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক : স্বাধীন সাংবাদিকতা দেশের কল্যাণের জন্য অপরিহার্য। এতে সরকারেরও লাভ হবে, কারণ স্বাধীন গণমাধ্যমই একমাত্র প্রতিষ্ঠান যা সরকারকে সত্য কথা বলতে পারে। কেউ কারও বিরোধী নয়, সবাই সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পক্ষে। তাই সাংবাদিকতার পথ মুক্ত রাখা জরুরি। তবে সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্যের অভাব রয়েছে। মালিক, সম্পাদক ও সাংবাদিক সবাই যদি ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে যায়, তাহলে সংবাদপত্রের ভূমিকা, সাংবাদিকের উন্নয়ন এবং সংবাদপত্রের সামগ্রিক অগ্রগতি সম্ভব বলে মত দিয়েছেন বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রকাশক, সম্পাদক ও সাংবাদিকরা।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর কৃষিবিদ ইন্সটিটিউটে সম্পাদক পরিষদ এবং নিউজ পেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) আয়োজিত গণমাধ্যম সম্মিলন ২০২৬-এ তারা এসব মতামত তুলে ধরেন। সম্মিলনে অংশ নেন দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রকাশক, সম্পাদক ও সাংবাদিকরা। সঞ্চালনা করেন সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউএইজ সম্পাদক নুরুল কবীর। তিনি বলেন, সমাজে ভিন্নমত ও ভিন্ন কণ্ঠ থাকা জরুরি। সেই বৈচিত্র্য বজায় রাখার জন্যই এই সম্মিলন। তিনি ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতাই একমাত্র প্রতিষ্ঠান যা সরকারকে সত্য কথা বলতে পারে। তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, দলীয় লোক, আমলাতন্ত্র কিংবা গোয়েন্দা সংস্থা কেউই সত্য বলবে না। স্বাধীন সাংবাদিকতাই পারে সরকারকে বাস্তবতা জানাতে।

দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, ঐক্য ও সংহতি এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। তিনি সতর্ক করে বলেন, নির্বাচিত সরকার এলেই সব সমস্যার সমাধান হবে— এমন ধারণা ভুল।

ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচনের পর জনগণের ম্যান্ডেট পাওয়া সরকার স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ তৈরিতে সহায়তা করবে।

রংপুরের দৈনিক যুগের আলোর সম্পাদক মমতাজ শিরীন বলেন, গণমাধ্যমকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে। নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সহ-সভাপতি মুনিমা সুলতানা বলেন, পেশাদারিত্ব, সহানুভূতি ও নারীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে।

চট্টগ্রামের দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক বলেন, প্রকৃত সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ হলে তথ্যের শূন্যস্থান তৈরি হয়, যা ভুয়া সংবাদে পূর্ণ হয়। তিনি বলেন, দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের জন্য ভয়হীন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ বলেন, সাংবাদিকদের মর্যাদা রক্ষায় সুরক্ষা আইন জরুরি। তিনি সরকারের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের দাবি জানান।

গাজীপুরের শ্রীপুর প্রেসক্লাব সভাপতি এস.এম. মাহফুল হাসান হান্নান বলেন, অধিকার আদায়ে ঐক্যের বিকল্প নেই। লক্ষ্মীপুর প্রেস ক্লাব সভাপতি আ হ ম মোশতাকুর রহমান বলেন, ঐক্যবদ্ধ হতে হলে সংকীর্ণতা থেকে বের হতে হবে।

যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমান বলেন, সাংবাদিকতা এখনও সম্মানজনক পেশা হয়ে ওঠেনি। তিনি সাংবাদিকদের বিকল্প ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দেন।

সব বক্তাই একমত হন, স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ মুক্ত রাখতে হলে ঐক্য, সংহতি ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা জরুরি।