শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১০ শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

কসাই আনিসকে ছয় টুকরো করলেন প্রেমিকা সুফিয়া

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : পাঁচ বছরের প্রেমের সম্পর্কের অবসান ঘটল একদিনেই। প্রেমিকা সুফিয়া আক্তারের (৩৯) বাসায় গিয়ে প্রাণ হারালেন মো. আনিস। সম্পর্কের দ্বন্দ্ব ধামাচাপা দিতে সুফিয়া কৌশলে আনিসকে বাসায় ডেকে আনেন। হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতা করেন আরও দুজন। এ ঘটনায় নারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার নারীর বরাতে পুলিশ জানায়, আনিস পেশায় কসাই। গত বুধবার বিকেলে নগরের অক্সিজেন শহীদনগর এলাকায় অবস্থিত বাসায় আনিসকে ডেকে নেন সুফিয়া। প্রথমে আনিসের মাথায় আঘাত করা হয়। পরে তার ভাই ও আরেক যুবকের সহায়তায় গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। হত্যার পর আনিসের দুই হাত ও পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ছয় টুকরো করা হয়। এরপর পলিথিনে মুড়িয়ে আশপাশের খাল ও ভাগাড়ে ফেলে দেওয়া হয়।

থানা সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় লোকজন পলিথিনে মোড়ানো দুটি হাত কুকুরের টানাটানি করতে দেখে থানায় খবর দেন। পরে দুটি হাত ও দুটি পা উদ্ধার করে আঙুলের ছাপ নেওয়া হয়। এতে আনিসের পরিচয় নিশ্চিত হয়। এরপর তার মোবাইল নম্বরের কললিস্টের সূত্র ধরে সুফিয়া আক্তারসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরই মধ্যে নিহত আনিসের মাথাসহ শরীরের বাকি অংশও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি জাহেদুল কবির বলেন, গ্রেপ্তার নারীর দাবি অনুযায়ী আনিস তার কিছু ছবি দিয়ে জিম্মি করে প্রতারণা করছিল। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ভাই ও এক স্বজনের সহায়তায় তিনি আনিসকে খুন করেছেন। তবে নিহতের স্বজনেরা এ দাবি অস্বীকার করে জানান, সুফিয়ার কাছে আনিস দুই লাখ টাকা পাওনা ছিলেন। টাকা চাওয়ার কারণেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। তদন্তের পর এসব বিষয়ে সত্যতা নিশ্চিত হবে।

তিনি আরও জানান, শুক্রবার রাতে বায়েজিদ থানায় মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

নগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার নারী বিবাহিত। তার সঙ্গে আনিসের প্রায় পাঁচ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তবে সম্প্রতি বিরোধ দেখা দেয়। এর জেরেই আনিসকে খুন করা হয়েছে।