শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১০ শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

মায়ের চোখে নিরাপত্তার নতুন উপলব্ধি আলিয়া ভাট

সড়ক দুর্ঘটনার এক ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা আজও আলিয়া ভাটকে নাড়া দেয়। গাড়ির পেছনের আসনে বসলেও তিনি নিয়মিত সিটবেল্ট ব্যবহার করেন। রাস্তায় চলাচলের সময় তার মনে এক ধরনের ভয় কাজ করে। কারণ, একটি দুর্ঘটনা একসময় তার খুব কাছের একজনকে কেড়ে নিয়েছিল।

সম্প্রতি ভারতের একটি সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক অনুষ্ঠানে অংশ নেন আলিয়া ভাট। সেখানে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অমিতাভ বচ্চন ও ভিকি কৌশল। অনুষ্ঠানে নিজের জীবনের বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি।

আলিয়া জানান, মাত্র ১২ বছর বয়সে তিনি তার ন্যানিকে একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় হারান। ওই নারী তার দেখাশোনা করতেন এবং পরিবারের সদস্যের মতোই ছিলেন। আলিয়ার ভাষায়, তিনি শুধু ন্যানি নন, দিদির মতো একজন মানুষ ছিলেন।

ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে আলিয়া বলেন, তার ন্যানি একদিন সঙ্গীর সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে মন্দিরে যাচ্ছিলেন। সঙ্গীর মাথায় হেলমেট থাকলেও ন্যানির মাথায় হেলমেট ছিল না। পথে একটি ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে তিনি ছিটকে পড়ে যান এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এই ঘটনা আলিয়ার মনে গভীর প্রভাব ফেলে। দীর্ঘদিন তিনি আতঙ্কে ভুগেছেন। পরিবারের সবাই তখন নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি সতর্ক হয়ে ওঠে। আলিয়ার মা তাকে নিয়ে সব সময় চিন্তিত থাকতেন। এমনকি গাড়িচালককে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল—সিটবেল্ট ছাড়া গাড়ি চালালে চাকরি থাকবে না।

আলিয়া জানান, এখন নিজে মা হওয়ার পর সেই সময়কার উদ্বেগ, ভয় আর নিরাপত্তার গুরুত্ব আরও ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারছেন তিনি। তার ভাষায়, “এখন নিজে মা হয়ে এই বিষয়গুলো বুঝতে পারি।”

বর্তমানে আলিয়া ভাট জীবনের এক নতুন অধ্যায় পার করছেন। একদিকে তার পেশাগত ব্যস্ততা, অন্যদিকে তিনি মেয়ের মাতৃত্বের স্বাদ উপভোগ করছেন। এর আগে তিনি বলেছিলেন, মেয়ের জন্মের পরেই তারা সিদ্ধান্ত নেন যে, রাহাকে কখনো একা রাখা হবে না। কখনও তিনি দেখবেন, কখনও রণবীর। যার যখন কাজ থাকবে, অন্যজন ছুটি নিয়ে সন্তানের কাছে থাকবেন।