মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২০ মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১৪ শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

মাঘ মাসে মাথা এতো গরম হলে চৈত্র মাসে কী হবে: জামায়াত আমির

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলের বিজয়ের আশাবাদ ব্যক্ত করে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এটা বুঝতে পেরে অনেকের মাথা গরম হয়ে গেছে। মাঘ মাসে এত মাথা গরম হলে চৈত্র মাসে কি হবে এমন প্রশ্নও ছুঁড়েছেন তিনি।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া এসিএম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনি জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমির শফিকুর রহমান বলেন, ‘চব্বিশ না হলে ছাব্বিশ হতো না। যারা চব্বিশকে স্বীকার করে তাদের জন্যই ছাব্বিশ এসেছে। আর যারা চব্বিশকে স্বীকার করে না, তাদের জন্য ইনশাআল্লাহ লালকার্ড। আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ ইনশাআল্লাহ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পথ খুঁজে পাবে। বাংলাদেশের মানুষ সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করবে না।’

‘যে যুবকদের নেতৃত্বে আমরা চব্বিশের বিপ্লবের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি, সেই তরুণরাই বাংলাদেশকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ডাকসু থেকে শুরু, জকসুতে এসে আপাতত থেমেছে। সব জায়গায় একই চিত্র।’

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই দালালমুক্ত বাংলাদেশ, আমরা চাই চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ। আমরা দুর্নীতিবাজমুক্ত বাংলাদেশ। আমরা চাই মামলাবাজমুক্ত বাংলাদেশ। আমরা চাই ব্যাংক ডাকাতমুক্ত বাংলাদেশ। আমরা চাই ঋণখেলাপিমুক্ত বাংলাদেশ। আমরা একটা মানবিক বাংলাদেশ চাই। তারা রায় অলরেডি দিয়ে দিয়েছে, ১২ তারিখ ইনশাআল্লাহ তা-ই হবে।’

কোনো দলের নাম উল্লেখ না করে মূল প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘এটা দেখে অনেকের মাথা গরম। এখন চৈত্র মাস নাকি বৈশাখ মাস? মাঘ মাস, তো ভাই মাঘ মাসে মাথা এতো গরম হলে চৈত্র মাসে কি হবে? ভাই একটু ঠাণ্ডা রাখ মাথা। যেদিকে যাও সেদিকে মাথা গরমের লক্ষণ ফুটে ওঠে। মানুষ যখন হতাশ হয়, মানুষ যখন নিজের ব্যর্থতার গ্লানি চোখের সামনে দেখতে পায়, তখন চোখের মধ্যে সর্ষে ফুল দেখে। তখন অনেক সময় নিজের স্ত্রীকেও মা বলে সম্বোধন করে ফেলে। আমরা বাংলাদেশে এখন তাই দেখতে পাচ্ছি।’

বেকার ভাতা নেবে না-কি কাজ করবে, সমবেত যুবকদের কাছে জানতে চান জামায়াতের আমির। এসময় সমস্বরে ‘কাজ কাজ’ স্লোগান উঠলে তিনি বলেন, ‘চব্বিশের গণবিপ্লবে একটিবারের জন্য একজন যুবকও বলেনি আমরা বেকার ভাতার জন্য কাজ করছি। তারা বলেছিল, আমাদের মেধা, যোগ্যতাকে স্বীকৃতি দিতে হবে। আমার হাতে কাজ তুলে দিতে হবে। আমি দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে কাজ করে দেশ গড়তে চাই।’

আমরা কথা দিচ্ছি, আমরা যুবকদের হাতে, যুবতীদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দিয়ে তাদের অপমান করব না। আমরা তাদের শিক্ষা দিয়ে, প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের হাতে কাজ তুলে দেব। তখন তারাই গড়বে বাংলাদেশ। আর গর্ব করে বলবে, আমিই বাংলাদেশ।’

চব্বিশের বিপ্লব সফল করতে মা-বোনদের অবদান অপরিসীম বলে মন্তব্য করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘যেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বোনেদের গায়ের ওপর হাত তোলা হল, সেদিন সারা বাংলাদেশে যেন আগুন জ্বলে উঠল। পরদিন সারাদেশে ছয়জন বীর শহিদ হল। রংপুরে আবু সাঈদ বুক পেতে দিয়ে বলল, বুকের ভেতর দারুণ ঝড়-বুক পেতেছি গুলি কর। বীরেরা কখনও পালায় না। বীরেরা হয় বিজয়ী হয়, নয়তো গুলি খেয়ে শাহাদাত বরণ করে।’

জনসভায় ১১ দলীয় জোটের শরিক দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি অলি আহমদ, চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের জামায়াতের প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরীসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন আসনের প্রার্থী ও নেতারা বক্তব্য দেন।

লোহাগাড়ায় জনসভা শেষে জামায়াতে ইসলামীর আমির সীতাকুণ্ডে জনসভাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সীতাকুণ্ডের পর সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীতে আরেকটি জনসভা শেষ করে তিনি ঢাকায় ফিরবেন।