বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২২ মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১৬ শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

মোবাইল স্ক্রলিংয়ে বাড়ছে শরীর-মন ক্লান্তি

ফিচার ডেস্ক : দিনভর কাজের চাপ শেষে অনেকেই বিশ্রামের সঙ্গী হিসেবে হাতে নেন মোবাইল ফোন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ক্রল করে সময় কাটানো তাঁদের কাছে বিনোদনের মাধ্যম হলেও এর পরিণতি বেশির ভাগ সময়েই ক্লান্তি ও অস্বস্তি। দীর্ঘ সময় স্ক্রল করার পর মন শান্ত হয় না, বরং শরীর ভারী লাগে, মাথা ঝিমুনি ধরে, ঘুমও আসে না।

কেন স্ক্রল করলে বিশ্রাম হয় না

মস্তিষ্ক বিশ্রাম পায় তখনই, যখন চারপাশে উত্তেজনা কম থাকে। নীরব পরিবেশ মস্তিষ্ককে শান্ত করে। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক খবর, ছবি, ভিডিও ও মতামত সামনে আসতে থাকে। ফলে বিশ্রামের সময়ও মস্তিষ্ক তথ্য গ্রহণ, বিচার ও তুলনায় ব্যস্ত থাকে। এতে মস্তিষ্ক শান্ত হওয়ার বদলে আরও সজাগ হয়ে ওঠে। এ কারণেই দীর্ঘ সময় স্ক্রল করার পর মানুষ ক্লান্ত হয়ে পড়ে, মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয় এবং অনেকেই ব্রেন ফগ অনুভব করেন।

তরুণ কর্মজীবীদের মধ্যে সমস্যা বেশি

২০ থেকে ৩০ বছরের কর্মজীবী মানুষের মধ্যে এ মানসিক ক্লান্তি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এ বয়সে কাজের চাপ, ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা ও নিজেকে প্রমাণ করার তাগিদ থাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সেই চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়। অন্যের সাফল্য ও ব্যস্ত জীবন চোখে পড়লে নিজের অগ্রগতি নিয়ে তুলনা শুরু হয়। বাইরে থেকে বিশ্রাম মনে হলেও ভেতরে চাপ চলতেই থাকে। এর প্রভাব পড়ে ঘুমে, সকালে উঠে ক্লান্ত লাগে, আবেগ দুর্বল হয় এবং মনোযোগ দ্রুত ভেঙে যায়।

সকালে ঘুম থেকে উঠেই ঝিমুনি

অনেকেই বলেন, রাতে দীর্ঘ সময় ঘুমালেও সকালে মাথা হালকা লাগে না। কারণ রাতে স্ক্রল করার সময় মস্তিষ্ক সজাগ থাকে। ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাঘাত ঘটে। শরীর ঘুমালেও মস্তিষ্ক পুরোপুরি বিশ্রাম নিতে পারে না। এর ফলেই সকালে ঝিমুনি, ভারী ভাব ও মনোযোগের অভাব দেখা দেয়।

কেন স্ক্রল থামানো কঠিন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মস্তিষ্কে ক্ষণস্থায়ী আনন্দ তৈরি করে। নতুন কিছু দেখার সঙ্গে সঙ্গে ভালো লাগার অনুভূতি আসে। মস্তিষ্ক তখন আরও নতুন কিছু চায়। কিন্তু এই আনন্দ অল্প সময়ের। তাই মস্তিষ্ক বারবার স্ক্রল করতে থাকে। এমনকি ভালো না লাগলেও থামা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশ্রামের বদলে মানুষ পড়ে যায় অভ্যাসগত ক্লান্তির চক্রে।

কীভাবে ব্যবহার করবেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম

সমাধান লুকিয়ে নেই পুরোপুরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছেড়ে দেওয়ায়। বরং এটিকে বিশ্রামের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার না করাই ভালো। কাজ শেষে মোবাইল ফোন না ধরে হাঁটা, শরীর নড়াচড়া করা বা চুপচাপ বসে থাকা মস্তিষ্ককে শান্ত করে। ঘরের কিছু জায়গা স্ক্রিনমুক্ত রাখা কার্যকর। খাবার টেবিল বা শোয়ার ঘরে স্ক্রিন না থাকলে মস্তিষ্ক বিশ্রাম পায়।

স্ক্রল করার সময় নিজেকে প্রশ্ন করা জরুরি—আমি কি বিশ্রাম নিচ্ছি, নাকি অস্বস্তি থেকে পালাচ্ছি। এ প্রশ্ন অনেক সময় অকারণ স্ক্রল থামিয়ে দিতে পারে। ঘুমের অন্তত এক ঘণ্টা আগে স্ক্রিন এড়িয়ে চলা সবচেয়ে উপকারী। এর বদলে বই পড়া, হালকা গান শোনা বা শ্বাসপ্রশ্বাসে মনোযোগী হওয়া মস্তিষ্ককে সত্যিকারের বিশ্রাম দেয়।

ক্লান্তিকে অবহেলা করবেন না

দীর্ঘদিন ধরে ক্লান্তি, আবেগহীনতা, খারাপ ঘুম ও মনোযোগের অভাব কোনো দুর্বলতা নয়। এগুলো মস্তিষ্কের সতর্কসংকেত। সময়মতো বুঝতে পারলে বড় ধরনের মানসিক অবসাদ এড়ানো সম্ভব।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সময় কাটানোর মাধ্যম হতে পারে, কিন্তু বিশ্রামের জায়গা নয়। মস্তিষ্কের জন্য সত্যিকারের বিশ্রাম মানে নীরবতা। সে সুযোগ যত বেশি পাওয়া যাবে, ততই কমবে ক্লান্তি।