ফিচার ডেস্ক : শিগগিরই কথোপকথনের ভিত্তিতে বিজ্ঞাপন দেখাতে শুরু করতে পারে চ্যাটজিপিটি। ব্যবহারকারীরা কী কিনতে আগ্রহী হতে পারেন, সেটি বুঝে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করা হবে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে লগইন করা প্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের জন্য বিনা মূল্যের সংস্করণে পরীক্ষামূলকভাবে বিজ্ঞাপন চালু করা হবে। একই সঙ্গে মাসিক ৮ ডলারের নতুন একটি সাবস্ক্রিপশন চালু হচ্ছে। এই প্যাকেজে অতিরিক্ত সুবিধা থাকলেও বিজ্ঞাপন দেখা যাবে। বিজ্ঞাপনমুক্ত থাকবেন কেবল উচ্চমূল্যের সাবস্ক্রিপশন ও ব্যবসায়িক গ্রাহকেরা।
প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান এর আগে বিজ্ঞাপন আনার বিষয়ে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। তবে বিপুল ব্যয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামো গড়ে তুলতে নতুন আয়ের পথ খোঁজা জরুরি হয়ে পড়েছে। বর্তমানে চ্যাটজিপিটির মাসিক ব্যবহারকারী প্রায় ৮০ কোটি।
এর আগে চ্যাটজিপিটির মাধ্যমে সরাসরি কেনাকাটার সুবিধা চালু করা হয়েছে। স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসংক্রান্ত নানা টুল যোগ করা হয়েছে, যাতে এটি ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে ওঠে। কথোপকথনের তথ্য ব্যবহার করলে লক্ষ্যভিত্তিক বিজ্ঞাপন দেখানো সহজ হবে। যেমন কেউ ভ্রমণের পরিকল্পনা করলে তাঁকে হোটেল বা বিনোদনের বিজ্ঞাপন দেখানো হতে পারে। আবার খাবার নিয়ে আলাপ করলে বিভিন্ন রেস্তোরাঁ বা সরবরাহকারীর বিজ্ঞাপন দেখা যেতে পারে।
পরীক্ষামূলকভাবে বিজ্ঞাপন চ্যাটজিপিটির উত্তরের নিচে দেখানো হবে এবং স্পষ্ট করে জানানো থাকবে যে এটি বিজ্ঞাপন। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বিজ্ঞাপন কখনোই চ্যাটজিপিটির উত্তরের ওপর প্রভাব ফেলবে না।
ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য বা কথোপকথন বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে বিক্রি করা হবে না। চাইলে ব্যবহারকারী ব্যক্তিগতকৃত বিজ্ঞাপন বন্ধ করতে পারবেন। স্বাস্থ্য, মানসিক স্বাস্থ্য ও রাজনীতি-সংক্রান্ত কথোপকথনে কোনো বিজ্ঞাপন দেখানো হবে না।
১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য বিজ্ঞাপন দেখানো হবে না। বয়স নির্ধারণে ব্যবহারকারীর ব্যবহার-প্যাটার্ন বিশ্লেষণ করা হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন আরও বাড়বে।
চ্যাটজিপিটিতে বিজ্ঞাপন যুক্ত হলে ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতায় পরিবর্তন আসবে। সুবিধা ও গোপনীয়তার ভারসাম্য কীভাবে রাখা হয়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।