রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৫ মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১৯ শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

ফাহিমের দারুণ ক্যামিও, হারা ম্যাচ জিতে গেল পাকিস্তান

স্পোর্টস ডেস্ক : জিততে হলে শেষ ১২ বলে দরকার ছিল ২৯ রান, হাতে ৩ উইকেট। ক্রিজে নেই কোনো স্বীকৃত ব্যাটার। নিশ্চিত হারের মুখেই ছিল পাকিস্তান। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে ১৯তম ওভারে ৩ ছক্কা ও ১ চারে ২৪ রান তুলে ফেললেন লোয়ার অর্ডারে নামা ফাহিম আশরাফ।
আর তাতেই কেল্লাফতে। শেষ ওভারে দরকার ছিল মাত্র ৫ রান। শাহিন শাহ আফ্রিদি সিঙ্গেল নেওয়ার ১ বল পরেই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে বাকি কাজও সেরে ফেললেন আশরাফ। আর তাতেই অবিশ্বাস্য এক জয় তুলে নিল পাকিস্তান।

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে আজ নেদারল্যান্ডসকে ৩ উইকেটে হারিয়েছে সালমান আঘার দল। কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে আজ আগে ব্যাট করে পাকিস্তানের সামনে সব উইকেট হারিয়ে ১৪৮ রানের লক্ষ্য দেয় ডাচরা। সেই লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ১১৪ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ফেলে পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত ফাহিমের ওই অতিমানবীয় ক্যামিওতে (১১ বলে অপরাজিত ২৯ রান) ভর করেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় পাকিস্তানিরা।

রান তাড়ায় শুরুটা আক্রমণাত্মক করে পাকিস্তান। ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান শুরু থেকেই ডাচ বোলারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। ৩১ বলে চার চার ও দুটি ছক্কায় ৪৭ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। অন্য প্রান্তে সাইম আইয়ুব ১৩ বলে ২৪ রান করে রানরেট চাঙা রাখেন। পাওয়ারপ্লেতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইঙ্গিত দেয় পাকিস্তান।

তবে মাঝের ওভারগুলোতে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে তারা। অধিনায়ক সালমান আগা ও বাবর আজম বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। বাবর ১৮ বলে ১৫ রান করে ফিরলে সমীকরণ জটিল হয়ে ওঠে। এরপর উইকেটকিপার উসমান খান কোনো রান না করেই বিদায় নিলে ডাচরা ম্যাচে ফেরার আশা দেখছিল।

শেষ দিকে পরিস্থিতি সামাল দেন ফাহিম আশরাফ। ঠান্ডা মাথায় খেলতে থাকা এই অলরাউন্ডার অসাধারণ ইনিংস খেলেন। তাকে সঙ্গ দেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। শেষ পর্যন্ত ১৯.৩ ওভারেই জয় নিশ্চিত করে পাকিস্তান।

এর আগে টস জিতে আগে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেওয়া পাকিস্তান নেদারল্যান্ডসকে বড় সংগ্রহ গড়তে দেয়নি। নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৪৭ রানেই থেমে যায় ডাচদের ইনিংস।

ইনিংসের শুরুতে বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিল নেদারল্যান্ডস। ওপেনার মাইকেল লেভিট আগ্রাসী ভঙ্গিতে ব্যাট করে চাপ তৈরি করেন। তবে বাবর আজমের অসাধারণ ফিল্ডিং মুহূর্তেই বদলে দেয় ম্যাচের চিত্র। ১৫ বলে ২৪ রান করা লেভিট লফটেড শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দেন, বাবর দৌড়ে গিয়ে বল বাউন্ডারি লাইনের ভেতরে ফিরিয়ে দিলে শাহিন আফ্রিদি নিশ্চিত করেন উইকেট।

এরপর থেকে নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারাতে থাকে নেদারল্যান্ডস। আবরার আহমেদের ভ্যারিয়েশনে বিভ্রান্ত হয়ে ২০ রান করা কলিন অ্যাকারম্যান বোল্ড হন। অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডস একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াইয়ের চেষ্টা করেন। তিনি সর্বোচ্চ ৩৭ রান করেন, আর তাকে কিছুটা সহায়তা দেন বাস ডি লিডে, যার ব্যাট থেকে আসে ৩০ রান।

ইনিংসের টার্নিং পয়েন্ট আসে ১৭তম ওভারে। আবরারের বলে স্কয়ার লেগে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান এডওয়ার্ডস। ওই ওভারে প্রথমবার বল করতে এসেই সাইম আইয়ুব দুই বলের ব্যবধানে লগান ফন বিক ও জ্যাক লায়ন-ক্যাশেটকে আউট করেন। এক ওভারেই তিন উইকেট হারিয়ে পুরোপুরি ছন্দ হারায় ডাচরা।

প্রথম ১০ ওভারে ৭৯ রান তুলেছিল নেদারল্যান্ডস। পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে তাদের সেরা সূচনার একটি। তবে মাঝ ও শেষ ওভারে পাকিস্তানি বোলারদের নিয়ন্ত্রিত আক্রমণে সেই ভিত্তি কাজে লাগাতে পারেনি তারা। শেষ পর্যন্ত দেড়শোর আগেই অলআউট হয়ে যায় নেদারল্যান্ডস।