শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২২ ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১৭ রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে

মুক্তবাণী ডেস্ক : পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও আস্থার ভিত্তিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সব সময় দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে থাকে।

শুক্রবার (৬ মার্চ) রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় কূটনীতিকদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও বিদেশি মিশনের প্রতিনিধিরা, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সংসদ সদস্যরা অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী জানান, ইফতারের পূর্বে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই আয়োজন শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি নানা জাতি, ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের পারস্পরিক সম্মান, সহমর্মিতা ও ঐক্যের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার বিচক্ষণ নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ নীতি অনুসরণ করবে, ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ সহজ করবে এবং দায়িত্বশীল বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ গড়ে তুলবে। জনগণ ও বেসরকারি খাতের পূর্ণ সম্ভাবনা উন্মোচন করাই সরকারের লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, পারস্পরিক স্বার্থ, আস্থা ও সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব’ নীতির আলোকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি হবে বাস্তববাদী ও টেকসই। দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় অংশীদারত্বকে মূল্যায়ন করে আগামী বছরগুলোতে উন্মুক্ত আলোচনা ও সহযোগিতা জোরদার করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করা, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, উদ্যোগ ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করে উদার অর্থনৈতিক নীতি অনুসরণ করা হবে এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব জোরদার করা হবে।

বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বহুমুখী, প্রযুক্তিনির্ভর ও টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলা হবে, যা তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, নারীর ক্ষমতায়ন ঘটাবে এবং উদ্যোক্তা সৃষ্টিকে উৎসাহিত করবে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা জোরদার করা, পাঠ্যক্রমে তৃতীয় ভাষা অন্তর্ভুক্ত করা এবং গ্রামীণ এলাকায় প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, জনগণের আস্থা নির্ভর করে স্বচ্ছতা ও সততার ওপর। দুর্নীতি মোকাবিলায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গণতন্ত্র শুধু ব্যালট বাক্সে সীমাবদ্ধ নয়; এটি অন্তর্ভুক্তি, স্বচ্ছতা ও সংলাপের ধারাবাহিক অঙ্গীকার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, আইনের শাসন সমুন্নত রাখা, স্বাধীনতা রক্ষা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই সরকারের অঙ্গীকার। মানবাধিকার সুরক্ষা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা এবং সহনশীলতা ও বহুত্ববাদের সংস্কৃতি গড়ে তুলতেও সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি জানান, ধাপে ধাপে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালু করা হবে, যাতে নারী সদস্য ও কৃষি সম্প্রদায়ের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা প্রদান করা যায়।

পরিবেশ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নিতে বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করা হবে।

এ উপলক্ষে তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির পদে বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে সমর্থনের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বক্তব্য রাখেন।