শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২২ ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১৭ রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

রাজশাহীতে পুলিশ পাহারায় জ্বালানি তেল বিক্রি

রাজশাহী প্রতিনিধি : রাজশাহীতে জ্বালানি তেলের সরবরাহে ঘাটতির কারণে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে আজ শনিবারও মোটরসাইকেলের চালকদের দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। কোথাও কোথাও তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় সাময়িকভাবে পাম্প বন্ধ রাখা হচ্ছে, আবার কোথাও সীমিত পরিমাণে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে একটি ফিলিং স্টেশনে পুলিশের উপস্থিতিতে তেল বিক্রির ঘটনাও ঘটেছে।

আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজশাহীর হজরত শাহমখদুম বিমানবন্দরের সামনে অবস্থিত মেসার্স হাবিব ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। তেলের মেশিনের ওপর সাদা কাগজে লাল কালি দিয়ে লেখা ছিল—‘জ্বালানি সংকটের কারণে মোটরসাইকেলকে সর্বোচ্চ ১০০ টাকার তেল, মাহিন্দ্রা বা ভটভটিকে ২০০ টাকা, প্রাইভেট কারকে এক হাজার টাকা এবং পিকআপ ভ্যানকে ৩০০ টাকার তেল দেওয়া হবে।’

তবে সেখানে উপস্থিত অনেক চালক অভিযোগ করেন, পাম্পে তেল মজুত থাকা সত্ত্বেও কোনো যানবাহনকে তেল দেওয়া হচ্ছিল না। এ নিয়ে একপর্যায়ে পাম্প এলাকায় হট্টগোল শুরু হয়। ক্ষুব্ধ বাইকচালকেরা চিৎকার করে বলেন, ‘যদি তেল দেওয়া না হয়, তাহলে দড়ি বেঁধে পাম্প বন্ধ করে রাখলেই পারত। অযথা আমাদের হয়রানি করার দরকার কী?’

এ সময় চালকদের কেউ একজন এয়ারপোর্ট থানায় ফোন কল করলে দ্রুত পুলিশের একটি টহল গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পরে পুলিশ পাম্পের ব্যবস্থাপকের সঙ্গে কথা বলে এবং উপস্থিত যানবাহনগুলোকে তেল দেওয়া শুরু হয়। পুলিশের উপস্থিতিতেই পরে সেখানে তেল বিক্রি করা হয়।

রাজশাহীর মেসার্স আফরীন ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক সোলাইমান কবির বলেন, ‘তেলের কোনো ঘাটতি নেই, কিন্তু হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহে সাময়িক সমস্যা দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে রাজশাহীতে তেল পৌঁছাতে যে সময় লাগে, সেই কারণেও ঘাটতি দ্রুত পূরণ করা যাচ্ছে না।’

সোলাইমান কবির আরও বলেন, ‘শুক্র ও শনিবার ডিপো বন্ধ থাকায় তেল শেষ হয়ে গেছে। তবে রোববার তেল সরবরাহ পাওয়া গেলে পরিস্থিতি আবার স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।’