এইচ এম প্রফুল্ল, খাগড়াছড়ি : খাগড়াছড়ি আসনে বিএনপির প্রার্থী ওয়াদুদ ভূইয়াকে ভোট দিয়ে বিজয় করায় চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের নিরীহ ভোটারদের উপর নির্বাচনের পর দিন থেকে নির্যাতন-নিপিড়ন ও হুমকি চলছে। নিরাপত্তহীনতায় অনেক পাহাড়ি নারী-পুরুষ শহরের বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। পাহাড়ি নেতাদের অভিযোগ, সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা খাগড়াছড়িতে লাশের সন্ধান করছে। তাদের উদ্দেশ পাহাড়ি কিংবা বাঙালি গ্রামে একটি লাশ ফেলতে পারলে পাহাড়ে পাহাড়ি-বাঙালির সম্প্রীতিতে আঘাত হানা যাচ্ছে। এ নিয়ে খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়ার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচার হলে অভিযোগ আরো জোরালো হয়। বিষয়টি নিয়ে রোববার জেলা প্রশাসনের মাসিক আইন-শৃঙ্খলা সভায় খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক এইচ এম প্রফুল্ল ও জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক এম এন আবছার উত্থাপন করলে ডিসি ও এসপি বলেন, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১২ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ওয়াদুদ ভূঁইয়া ধানের শীষ প্রতীকে প্রায় ১ লাখ ৫১ হাজার ৪০ ভোট পেয়ে ভূমিধস বিজয় হয়েছেন। তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সশস্ত্র গ্রুপ সমর্থিত প্রার্থী ধর্মজ্যোতি চাকমা (ঘোড়া প্রতীক) পেয়েছেন প্রায় ৬৮ হাজার ৩১৫ ভোট। ব্যবধান ৮২ হাজার ৭২৫ ভোট। তিনি বাঙালি অধ্যুষিত কেন্দ্রের পাশাপাশি পাহাড়ি অধ্যুষিত কেন্দ্রগুলোতে রেকর্ড সংখ্যক ভোট পেয়েছেন। আর এটাই কাল হয়ে দাড়িয়েছে চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের জন্য। নির্বাচনের পরের দিন থেকে পাহাড়িদের উপর নেমে আসে নির্যাতনের ষ্টীম রোলার। অনেক পাহাড়িকে ধরে নিয়ে মারধর ও অনেককে অর্থদন্ড করা হয়। আবার অনেককে বাড়ি-ঘর ছাড়তে হয়েছে। হুমকির মুখে বাস্তুচ্যুত পাহাড়িরা জেলা ও উপজেলা শহরের আশ্রয়ে নিয়েছে বলে বাংলাদেশ ত্রিপুরা ঐক্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ক্ষণি রঞ্জন ত্রিপুরা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ মারমা ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক রুমেল মারমার অভিযোগ, ধানের শীষে ভোট দেওয়ার অপরাধে পাহাড়িদের উপর নির্যাতনের ষ্টীম রোলার চলছে। সশন্ত্র গ্রুপগুলো একটি লাশ চাচ্ছে। যাকে পুঁজি করে পাহাড়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানো যায়।
খাগড়াছড়ির চাকমা সম্প্রদায়ের অন্যতম নেতা ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য অনিমেষ চাকমা বলেন, নির্বাচনের পর দিন থেকে বিএনপিকে ভোট দেওয়ার অপরাধে সশস্ত্র গ্রুপ ড়ুলো পাহাড়িদের উপর নানামুখী নিপিড়ন-নির্যাতন চালাচ্ছে। অনেকে বাড়ি-ঘর ছাড়া। তিনি নিজেও নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন বলে অভিযোগ করেন।
এদিকে ৭ মার্চ ওয়াদুদ ভূইয়া এমপি নির্বাচনের পরে দিন থেকে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার অপরাধে পাহাড়িদের উপর সশস্ত্র গ্রুপগুলোর নিপিড়ন-নির্যাতন চালাচ্ছে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও আপলোড করেন। তিনি সন্ত্রাসীদের এমন কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান এবং সেনাবাহিনীসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।
জেলা প্রশাসনের মাসিক আইন-শৃঙ্খলা সভায় খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক এইচ এম এম প্রফুল্ল বলেন, নির্বাচনের পরের দিন থেকে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার অপরাধে অনেক পাহাড়ি ভাই-বোন এলাকা ছাড়া। তাদের উপর নির্যাতন চলছে। অর্থদন্ড করা হচ্ছে । খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক এম এন আবছার বলেন, দীর্ঘ দিন পর দেশের মানুষ স্বাধীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করেছে। কিন্ত ভোটের পর পাহাড়িদের উপর নিপিড়ন-নির্যাতন দু:খজনক।
সভায় খাগড়াছড়ি জেলার প্রশাসনের দুই শীর্ষ কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক মো: আনোয়ার সাদাত ও পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ বলেন, ক্ষতিগ্রস্তরা আইনের আশ্রয় নিলে প্রশাসন সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগ রয়েছে, খাগড়াছড়িতে পাহাড়ি-বাঙালির মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধনে বার বার আঘাত হানছে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। এদের নির্মূল করা না গেলে পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সুদুর পরাহত।