বিশেষ প্রতিবেদক : দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার একসঙ্গে পদত্যাগের পর দুই সপ্তাহ ধরে প্রতিষ্ঠানটি কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে। ৩ মার্চ তিন সদস্যের কমিশন পদত্যাগ করার পর এখনো নতুন কমিশন গঠনের জন্য বাছাই কমিটি গঠন হয়নি।
ফলে অভিযোগ অনুসন্ধান, মামলা অনুমোদন, চার্জশিট দাখিল, সম্পত্তি ক্রোক কিংবা অভিযুক্তদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না।
দুদকের মহাপরিচালক আক্তার হোসেন জানিয়েছেন, কমিশন ছাড়া আইনে নির্ধারিত অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব নয়। সীমিত পরিসরে পুরোনো অনুমোদিত তদন্ত চললেও নতুন কোনো অনুসন্ধান বা মামলা শুরু করা যাচ্ছে না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, কমিশন না থাকায় আদালতে অভিযুক্তদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চাওয়ার মতো পদক্ষেপও নেওয়া যাচ্ছে না। এতে আত্মগোপন বা দেশত্যাগের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
নতুন কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রণীত দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুযায়ী পাঁচ সদস্যের কমিশন গঠন করার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে একজন নারী এবং একজন তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে অভিজ্ঞ সদস্য থাকতে হবে। কমিশনারদের মধ্য থেকে একজনকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি।
সংশোধিত অধ্যাদেশ অনুযায়ী, সাত সদস্যের বাছাই কমিটি কমিশনার নিয়োগের দায়িত্বে থাকবে। তবে সংসদ অধিবেশন শুরু হলে ৩০ দিনের মধ্যে অধ্যাদেশ পাস না হলে তা বাতিল হয়ে যাবে এবং দুদক আবার পুরোনো আইন ২০০৪ অনুযায়ী পরিচালিত হবে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, কমিশনশূন্য অবস্থার দ্রুত অবসান ঘটাতে সার্চ কমিটি গঠন করে নতুন কমিশন নিয়োগ জরুরি। তবে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সরকারের পছন্দের ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করার প্রবণতা যেন প্রতিষ্ঠানকে আরও দুর্বল না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।