শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২০ চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১৪ শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

জাতির উদ্দেশে ভাষণে যুদ্ধের পক্ষে ট্রাম্পের সাফাই

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে স্থানীয় সময় রাত ৯টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ শুরু করেছিলেন। তার ১৯ মিনিটের এ বক্তব্য পূর্ববর্তী বক্তব্যেরই পুনরাবৃত্তি ছিল। এখানে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মূল কৌশলগত উদ্দেশ্যগুলো সমাপ্তির পথে।

বৃহষ্পতিবার (২ এপ্রিল) বার্তা সংস্থা রয়টার্স ট্রাম্পের ভাষণ তাদের প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে।

হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া ভাষণের শুরুতেই তিনি নাসার ‘আর্টেমিস-২’ মিশনকে চাঁদে সফল উৎক্ষেপনের জন্য ধন্যবাদ জানান। যাত্রা করা নভোচারীদের সাহসী উল্লেখ করে তাঁদের প্রশংসা করেন। এরপরে তিনি এক মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধ নিয়ে কথা বলেন।
বিজ্ঞাপন

ট্রাম্প বলেন, আজ ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ধ্বংস হয়ে গেছে। ইরানের বেশির ভাগ নেতারা মারা গেছে। তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ও ড্রোন হামলার সক্ষমতা নাটকীয়ভাবে খর্ব হয়েছে।

ট্রাম্প এরপরে ইরান যুদ্ধে অংশ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশ বিশেষ করে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, তারা অসাধারণ কাজ করেছে। আমরা কোনোভাবেই তাদের ব্যর্থ হতে দেব না।

ট্রাম্প আরও বলেন, ইরান এসব অনেক দেশের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে স্পষ্ট হয় যে ইরানের কখনই পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত না।

ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলা মাদুরোকে দ্রুত আটক করতে পারায় মার্কিন সেনাদের ধন্যবাদ জানান ট্রাম্প। এ ঘটনা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে বলেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার সম্পর্ক এখন ভালো যাচ্ছে বলেন ট্রাম্প। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন আর মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর নির্ভরশীল নয়।

ক্ষমতার প্রথম মেয়াদে ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বলে জানান ট্রাম্প। তিনি সোলাইমানিকে ‘রাস্তার ধারে পেঁতে রাখা বোমার হোতা’ বলে উল্লেখ করেন। সোলাইমানি এখনো বেঁচে থাকলে আজ রাতে আলোচনা অন্যরকম হতো বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘তবে তবুও আমরা জিততাম, বড় জয় পেতাম।’

যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য ইরান যুদ্ধ প্রয়োজন ছিল বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। সেটি ব্যাখ্যা করতেই তিনি এই ভাষণ দিচ্ছেন বলে জানান।

গত ৪৭ বছরে ইরানের ‘সন্ত্রাসী হামলার’ তালিকা দেন ট্রাম্প। তিনি ইরানের সরকারে থাকা ব্যক্তিদের ‘ঠগ’ ও ‘খুনি’ বলেন। যুদ্ধের আগে ইরানের বিক্ষোভকারীদের ওপর সরকারের চালানো দমন অভিযানে হাজার হাজার মানুষ নিহত হওয়ার কথা বলেন।

ইরানের এমন নেতাদের কখনই পারমাণবিক অস্ত্র পেতে দেওয়া যাবে না বলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমি তা হতে দেব না।’

ভেনেজুয়েলার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে তেল আনার প্রয়োজন নেই। যেসব দেশের মধ্যপ্রাচ্যের তেল প্রয়োজন তাদের নিজেদেরই হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার দায়িত্ব নিতে হবে বলেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের শিশু ও ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য যুদ্ধ ‘সফল বিনিয়োগ’ বলে দাবি করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, মার্কিনিরা আর ইরানের হামলার হুমকিতে নেই। তাদের পরমাণু আতঙ্কে নেই। যুক্তরাষ্ট্র আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি নিরাপদ, শক্তিশালী ও উন্নত হবে বলে দাবি করেন ট্রাম্প।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধবিরতির অনুরোধ করেছে বলে ট্রাম্পের দাবির কয়েক ঘণ্টা পর তিনি এই ভাষণ দেন। যদিও তেহরান ট্রাম্পের এই দাবি অস্বীকার করেছে।

এদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মার্কিন জনগণকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ বা এর প্রতিবেশী দেশগুলোর জনগণের প্রতি তার দেশের কোনো শত্রুতা নেই।

ট্রাম্পের ভাষণ ইরানীদের আলোচনায় বসতে বাধ্য করবে, এই সম্ভাবনা খুবই কম, কারণ তিনি যা বলেছেন তার কিছুই তাদের কাছে নতুন নয় – ইরানের বিরুদ্ধে সেই একই হুমকি ও বাগাড়ম্বর।

সুতরাং, ইরানি নেতারাও সম্ভবত একই ধরনের বাগাড়ম্বর অব্যাহত রাখবেন, সামরিক প্রতিরক্ষা ও প্রতিশোধের ওপর মনোযোগ দেবেন এবং তারা বলতেই থাকবেন যে কোনো আলোচনা হবে না। কারণ ট্রাম্প যা বলেছেন তার কোনো কিছুই এই যুদ্ধের ব্যাপারে তাদের অবস্থান পরিবর্তনে উৎসাহিত করবে না।