শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২০ চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১৪ শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

৫০ কোটি টাকার ঘুষ প্রস্তাবকারীদের নাম প্রকাশে আমির হামজাকে আইনি নোটিশ

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : ৫০ কোটি টাকা ঘুষের প্রস্তাবদাতাদের নাম প্রকাশের দাবিতে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা আমির হামজাকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন এক ব্যক্তি। নোটিশদাতা হৃদয় হাসান কুষ্টিয়া সদর উপজেলার সোনাপুর নওয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।

বুধবার হৃদয় হাসানের পক্ষে কুষ্টিয়া আদালতের আইনজীবী আব্দুল মজিদ নোটিশটি পাঠান। এতে বলা হয়েছে, নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে ঘুষ প্রস্তাবকারীদের নাম জনসমক্ষে প্রকাশ অথবা তাদের আইনের হাতে সোপর্দ করতে হবে।

হৃদয় হাসান বলেন, ‘বুধবার দুপুরের পর লিগ্যাল (আইনি) নোটিশটি এমপি সাহেব বরাবর পাঠানো হয়েছে। নোটিশে সাত দিনের মধ্যে ঘুষ প্রস্তাবকারীর পরিচয় অথবা আইনগত ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে। যদি তা না করেন, তাহলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

জানা গেছে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়া শহরে একটি ইফতার মাহফিলে বক্তব্যকালে আমির হামজা বলেন, ‘প্রায় সব মিলিয়ে শুধু মেডিকেল কলেজের জন্য ৫০ কোটি টাকার ওপরে অফার হয়েছে এই তিন দিনে। তা-ও কেউ জানবে না, শুধু আল্লাহ বাদে। আমি বলেছি, ৫০ কোটি কেন, ১০০ কোটি, পুরা কুষ্টিয়া লিখে দিলেও আমি আমার জায়গা থেকে একচুল নড়ব না।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই পাঁচ বছর যদি দায়িত্বে থাকি, পাঁচটা টাকা যেন না বাড়ে, সেই রকমভাবে চলতে চাই।’

পরদিন আমির হামজার এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে অনেকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ বন্ধ রাখতে ঘুষ দিতে চাওয়া ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় প্রকাশের দাবি জানান।

এর প্রায় এক মাস পর বুধবার ছাত্রদলের এই নেতা আইনি নোটিশ পাঠান। নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘আমির হামজা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর বিভিন্ন সময় জনসমক্ষে দেওয়া বক্তব্যে দাবি করেছেন যে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বন্ধ রাখার জন্য তিনি ৩ দিনে ৫০ কোটি টাকা ঘুষের প্রস্তাব পেয়েছেন। কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করেননি। উপরন্তু বলেছেন, কুষ্টিয়া লিখে দিলেও তাঁর অবস্থান বদলানো যাবে না।’

নোটিশে আরও বলা হয়, ‘গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে ছবিসহ আপনার (সংসদ সদস্য) বক্তব্যের অংশ ফলাও করে প্রকাশিত হয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো শরিয়াহ আইন ও রাষ্ট্রীয় আইনে ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতা উভয়েই সমান অপরাধী। আপনাকে যাঁরা ঘুষ প্রদান করতে চেয়েছেন, তাদের নাম প্রকাশ না করে আপনি শুধু ভালো মানুষ সাজার জন্য ৫০ কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণ করেননি বলে প্রচার করেছেন। ঘুষ প্রস্তাবকারীদের নাম প্রকাশ না করা এবং আইনের হাতে তুলে না দেওয়ার অর্থ হলো আইনের দৃষ্টিতে অপরাধীকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া।’

এ বিষয়ে হৃদয় হাসান বলেন, ‘দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে এই লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছি। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু না হওয়ায় জনগণ ভোগান্তি পোহাচ্ছে। কারা এর পেছনে কলকাঠি নাড়ছে, আমরা জানতে চাই। প্রয়োজনে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’

কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্যসচিব জাকির হোসেন সরকার বলেন, ‘আমির হামজা মেডিকেল কলেজ চালু নিয়ে বললেন, তিন দিনে ৫০ কোটি টাকার অফার পেয়েছেন। অথচ তাঁকে কারা টাকার অফার করেছে, তাদের নাম বলছেন না। এটা একটা ক্রিমিনাল অফেনস। তিনি জনসমক্ষে ঘুষ প্রস্তাবকারীদের নাম প্রকাশ করুক।’

এ বিষয়ে জানতে রাত ১১টার দিকে আমির হামজার মোবাইলফোনে একাধিকবার কল করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে তার শ্যালক আবু বকর সিদ্দীক বলেন, ‘এমপি সাহেব অধিবেশনে ছিলেন। ফোন বন্ধ রেখে রেস্টে আছেন। নোটিশ এখনো পাওয়া যায়নি। তাই এ বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না। নোটিশ পেলে পরবর্তী সময়ে বক্তব্য দেওয়া হবে।’