নিজস্ব প্রতিবেদক : পরিশোধনের জন্য দেশের একমাত্র সরকারি জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে (ইআরএল) পর্যাপ্ত অপরিশোধিত তেলের মজুত নেই। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির হাতে মাত্র মাত্র ৪০ হাজার টন অপরিশোধিত (ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল) তেলের মজুত রয়েছে। যা দিয়ে কারখানাটি ১০ থেকে ১২ দিন চলবে। প্রতিষ্ঠানটি দৈনিক সাড়ে ৪ হাজার টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের সক্ষমতাসম্পন্ন। যদিও বর্তমানে ওই কারখানায় বর্তমানে দৈনিক ৩ হাজার ৮০০ টন করে তেল পরিশোধন করা হচ্ছে। পরিশোধিত ওসব তেল বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) মাধ্যমে ভোক্তার হাতে যাচ্ছে। ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ১৯৬৮ সালে দেশের একমাত্র সরকারি জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) প্রতিষ্ঠিত হয় চট্টগ্রামের পতেঙ্গায়। অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) প্রতিষ্ঠানটিতে পরিশোধন করা হয়। অপরিশোধিত তেল থেকে পরিশোধনের মাধ্যমে উৎপাদন করা হয় ডিজেল, পেট্রল, ফার্নেস অয়েল, এলপিজি, জেট ফুয়েল ও বিটুমিন। তবে অকটেন এই প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন করা হয় না। সম্প্রতি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার প্রেক্ষিতে চলমান যুদ্ধে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে পড়েছে। তাতে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। ওই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিবহন করা হয়। ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে তার প্রভাব আমদানিনির্ভর বাংলাদেশেও পড়তে শুরু করেছে। যদিও হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশসহ পাঁচটি দেশের জাহাজ চলাচলে অভয় দেয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সর্বশেষ এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল ইধারএল রিসিভ করে। সেগুলো পরিশোধন করা হচ্ছে। প্রতিদিন ৩ হাজার ৮০০ থেকে চার হাজার মেট্রিক টন তেল পরিশোধ করা হচ্ছে। বর্তমানে কারাখানায় অপরিশোধিত তেলের সংকট আছে। ইস্টার্ন রিফাইনারির জন্য আমদানির এক লাখ টন তেল ভর্তি জাহাজ সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে অপেক্ষা করছে। ২ মার্চ সকালে জাহাজটি দেশের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা থাকলেও হরমুজ প্রণালি বন্ধের কারণে সেটি আটকা পড়েছে। পরিস্থিতি ভালো হলে জাহাজটি দেশের উদ্দেশে রওনা দেবে। তাছাড়া আরব আমিরাত থেকে আরও এক লাখ অপরিশোধিত তেল নিয়ে ২১ মার্চ দেশের উদ্দেশে আরো একটি জাহাজ রওনা দেয়ার কথা ছিল। সেটির শিডিউল বাতিল করা হয়। নতুন করে আরো একটি জাহাজে আগামী ২১ এপ্রিল তেল লোড করার শিডিউল আছে। সেটি নির্দিষ্ট সময়ে তেল লোড করলে আগামী ১ অথবা ২ মে দেশে পৌঁছাবে। সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে জাহাজ পৌঁছাতে প্রায় ১৩ থেকে ১৪ দিন লেগে যায়।
সূত্র আরো জানায়, বর্তমানে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে মাত্র ৪০ হাজার মেট্রিক টন কাঁচামাল অর্থাৎ অপরিশোধিত (ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল) তেলের মজুত আছে। যা দিয়ে ১০-১২ দিন চলবে। তারপর অপরিশোধিত তেলের সংকটে দেশের একমাত্র পরিশোধনাগার বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
এদিকে এ প্রসঙ্গে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক (অপারেশনস) মুহাম্মদ মামুনুর রশীদ খান জানান, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়াসহ বিকল্প দেশ থেকে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল কেনার চেষ্টা চলছে। সরকার বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে দেখছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি দেশ ক্রুড অয়েলের নমুনা পাঠিয়েছে। সেগুলো পরীক্ষা করে কয়েকটি থেকে কেনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে সেগুলো কিনলেও আসতে একটু সময় লাগবে।