নিজস্ব প্রতিবেদক : চাঁদা দাবির ঘটনায় আলোচনায় আসা প্রখ্যাত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলামের পাশে দাঁড়িয়েছে যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
শনিবার (১২ এপ্রিল) গভীর রাতে রাজধানীর শ্যামলীর সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি) হাসপাতালে গিয়ে তাকে আশ্বস্ত করেন সংগঠনের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নসহ শীর্ষ নেতারা।
তারা জানান, অভিযুক্ত মো. মঈন উদ্দিন মঈনসহ চাঁদাবাজ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুততম সময়ে অপরাধীদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
এ সময় ডা. কামরুল ইসলাম যুবদলের নেতাদের ধন্যবাদ জানান এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার জন্য গণমাধ্যমের প্রশংসা করেন।
এর আগে, সিকেডি হাসপাতালে সাবেক যুবদল নেতা মঈন উদ্দিন মঈনের নেতৃত্বে চাঁদাবাজির হুমকির খবর প্রকাশিত হয়। প্রায় এক বছর ধরে হাসপাতালকে চাপ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে চাঁদা দাবি করে আসছিল এই চক্র।
অধ্যাপক কামরুল ইসলাম জানান, গত জুলাই-আগস্ট থেকে তারা বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছে-কখনো রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে, কখনো সরাসরি ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। বিষয়টি জানিয়ে শেরে বাংলা নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হাসপাতালের ভেতরে ঢুকে কর্মরত একজনকে ধমক দিচ্ছেন এক ব্যক্তি, যিনি নিজেকে যুবদল নেতা হিসেবে পরিচয় দেন। ওই ব্যক্তি মঈন উদ্দিন মঈন। তার সহযোগী মাঈনুদ্দিনের বিরুদ্ধে খুন ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, হাসপাতালের খাবার সরবরাহ কেন্দ্রকে কেন্দ্র করেই দ্বন্দ্বের সূত্রপাত। অভিযোগ রয়েছে, টেন্ডার না দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে চক্রটি এবং এরপর থেকেই নিয়মিত চাঁদা দাবি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন শুরু হয়।
অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বিনা পারিশ্রমিকে কিডনি প্রতিস্থাপন করে আসছেন। তার অস্ত্রোপচারে সাফল্যের হার ৯৫ শতাংশের বেশি। মানবসেবায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০২২ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শেরে বাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের তদন্ত চলছে। সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।