বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬ শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

আল-আকসা থেকে ৩ মুসল্লি ‘আটক’, ‘অজ্ঞাত স্থানে’ নিয়ে গেল ইসরাইলি বাহিনী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রোববার দখলকৃত জেরুজালেমে আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণের ভেতর থেকে দুই নারী ও একজন কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরাইলি বাহিনী। মসজিদে আসা মুসল্লি ও কর্মীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে।

ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, ইসরাইলি বাহিনী দুই নারীকে আল-আকসা প্রাঙ্গণের ভেতরে থাকা অবস্থায় আটক করে। এরপর তাদের ‘অজ্ঞাত একটি জায়গায়’ নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানাচ্ছে আনাদোলু এজেন্সি।

জেরুজালেম গভর্নরেট এক বিবৃতিতে জানায়, আল-আকসা মসজিদের পরিচ্ছন্নতা বিভাগের প্রধান রায়েদ জাগির-কেও মসজিদ প্রাঙ্গণে থাকা অবস্থায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এই গ্রেপ্তারের কয়েক ঘণ্টা আগে ইসরাইলের চরম ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ভারী পুলিশ পাহারায় মসজিদটিতে অভিযান চালান। আল-আকসায় ইসরাইলের এই ধরনের তৎপরতা দিন দিন বাড়ছে। মুসল্লিদের ওপর নিষেধাজ্ঞাও কঠোর হচ্ছে।

২০০৩ সাল থেকে ইসরাইলি পুলিশ ইসরাইলি দখলদারদের মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে দিচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বারবার আপত্তি জানিয়েছে মসজিদ পরিচালনাকারী ইসলামিক ওয়াকফ বিভাগ। ২০২২ সালের শেষ দিকে বেন-গভির জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী হওয়ার পর থেকে আল-আকসায় ইসরাইলি লঙ্ঘনের ঘটনা আরও বেড়ে গেছে।

আল-আকসা মসজিদ মুসলমানদের কাছে বিশ্বের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান। ইহুদিরা এই জায়গাটিকে ‘টেম্পল মাউন্ট’ বলে। তারা দাবি করে, প্রাচীনকালে এখানে দুটি ইহুদি মন্দির ছিল। এই জায়গায় তাদের তৃতীয় মন্দির বানানোর পরিকল্পনাও বহুদিনের।

ফিলিস্তিনিরা বলছে, ইসরাইল দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেমকে ইহুদিকরণের চেষ্টা করছে। আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে আরব ও ইসলামি পরিচয় মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে বলে তারা মনে করেন।

ফিলিস্তিনিরা পূর্ব জেরুজালেমকে তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে দেখেন। আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ীও ১৯৬৭ সালে ইসরাইলের এই শহর দখল এবং ১৯৮০ সালে সংযুক্তিকরণ স্বীকৃত নয়।