বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬ শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

ঢাকাজুড়ে বৈশাখী উচ্ছ্বাস, গরমে থেমে নেই আনন্দধারা

বিশেষ প্রতিবেদক : বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দকে ঘিরে রাজধানীজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে উৎসবের আমেজ। তীব্র গরমে জনজীবন কিছুটা অস্বস্তিকর হলেও উদযাপনে ভাটা পড়েনি। সকাল থেকেই শাহবাগ, রমনা পার্ক, টিএসসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা এলাকায় মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পরিবার, বন্ধু কিংবা প্রিয়জনদের সঙ্গে ঘুরে বেড়ানো, ছবি তোলা আর শুভেচ্ছা বিনিময়ে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে মানুষের উপস্থিতি ক্রমেই বাড়তে থাকে। লাল-সাদা পোশাকে সেজে ওঠা তরুণ-তরুণীরা দল বেঁধে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কেউ ঐতিহ্যবাহী নকশার পোশাকে ছবি তুলছেন, আবার কেউ সেলফিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। চারুকলা ইনস্টিটিউটের আশপাশে গালে রঙতুলির আঁচড়ে ‘শুভ নববর্ষ’ লিখিয়ে নিতে দেখা গেছে অনেককে।

বাড্ডার কালাচাঁদপুর থেকে পরিবার নিয়ে নববর্ষ উদযাপনে আসা রাজিব হোসেন বলেন, “গরম একটু বেশি হলেও এই দিনের আনন্দটাই আলাদা। সবাই একসঙ্গে বের হতে পারছি, সেটাই বড় কথা।”

শাহবাগ মোড়ের ফুলের দোকানগুলোতেও ছিল বাড়তি ভিড়। গোলাপ, গাঁদা ফুলের মালা, রজনীগন্ধাসহ নানা ফুল কিনতে মানুষের আগ্রহ চোখে পড়ার মতো। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দামও কিছুটা বেশি।

অন্যদিকে প্রচণ্ড গরমে স্বস্তি পেতে পানির চাহিদা বেড়েছে। বিভিন্ন স্থানে বোতলজাত পানি ও ডাব বিক্রেতাদের সরব উপস্থিতি দেখা গেছে। ডাব বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা দরে। বিক্রেতা আব্দুর রহমান জানান, গরমের কারণে ডাবের চাহিদা অনেক বেশি, সারাদিন ভালো বিক্রি হচ্ছে।

এর আগে সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে বৈশাখী শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ নানা শ্রেণি-পেশার কয়েক হাজার মানুষ এতে অংশ নেন। এবারের শোভাযাত্রায় বিশেষভাবে স্থান পেয়েছে পাঁচটি প্রধান মোটিফ—মোরগ, বেহালা বা দোতারা, পায়রা, হাতি ও ঘোড়া। এগুলো যথাক্রমে শক্তি, সৃজনশীলতা, শান্তি, গৌরব ও গতিময়তার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।