আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় শান্তি আলোচনার সম্ভাবনায় জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের আশঙ্কা কিছুটা কমায় মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিশ্ববাজারে তেলের দাম হ্রাস পেয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৮.৪০ ডলারে নেমেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া তেলের দাম ১.৭ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৭.৪০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সম্ভাব্য একটি চুক্তি নিয়ে তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। এর আগে সপ্তাহান্তে আলোচনায় সমঝোতা না হওয়ায় ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধের নির্দেশ দিলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান পাঁচ বছর পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত করার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র ২০ বছরের জন্য তা বন্ধ রাখার দাবি জানিয়ে প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করে। পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত আলোচনায় উভয় পক্ষ পারমাণবিক কার্যক্রম স্থগিত রাখার বিষয়ে প্রস্তাব বিনিময় করলেও এখনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। তবে সরাসরি আরেক দফা বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার জেমস কুক ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক জিয়াজিয়া ইয়াং বলেন, ট্রাম্পের মন্তব্যকে উত্তেজনা কমার সম্ভাবনার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা যেতে পারে। তিনি আরও জানান, সোমবার দামের বড় উত্থানের পর ব্যবসায়ীরা স্বল্পমেয়াদি সমন্বয় করায়ও তেলের দাম কিছুটা কমেছে।
বাজার এখন নজর রাখছে, তেহরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত করবে কি না। এমন সিদ্ধান্ত নিলে তা উল্লেখযোগ্যভাবে উত্তেজনা কমাতে পারে বলে মনে করেন ইয়াং।
তবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার প্রধান ফাতিহ বিরোল সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান তেলের দাম মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির প্রকৃত গুরুত্ব পুরোপুরি প্রতিফলিত করছে না। তার মতে, এপ্রিল মাস মার্চের চেয়েও খারাপ হতে পারে। কারণ মার্চে পাওয়া তেল সংকট শুরুর আগেই পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু এপ্রিলে নতুন করে কিছুই পাঠানো হচ্ছে না। এই বিঘ্ন যত দীর্ঘস্থায়ী হবে, সমস্যাও তত বেশি গুরুতর হয়ে উঠবে।