বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৯ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৪ জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

রণক্ষেত্র চট্টগ্রামের নিউমার্কেট মোড়

নিজস্ব প্রতিবেদক : কারও মাথায় হেলমেট, কারও হাতে ধারালো অস্ত্র, আবার কারও হাতে লাঠিসোঁটা। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দিনভর চট্টগ্রামের সরকারি সিটি কলেজ ও আশপাশের এলাকায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে দফায় দফায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

হামলা, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং মিছিলে মিছিলে নিউমার্কেট এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

সংঘর্ষ চলাকালে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে একজনের পায়ের গোড়ালি অনেকটাই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিতে দেখা যায়।

ছাত্রশিবিরের দাবি, আহত শিক্ষার্থীর নাম মোহাম্মদ আশরাফ। তিনি পাহাড়তলি ওয়ার্ড শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও সিটি কলেজের অনার্সের শিক্ষার্থী।

মঙ্গলবার সকাল থেকেই সিটি কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। দুপুর ১২টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে উভয় পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় বেশ কয়েকজন আহত হন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ পৌঁছায়।

এদিন সিটি কলেজে ডিগ্রি ও মাস্টার্সের পরীক্ষা থাকলেও সংঘর্ষের মুখে কলেজের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা ও ক্লাস বাতিল ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। তবে কলেজ প্রশাসনের অনুরোধে প্রথম দফায় দুই পক্ষ সরে যায়।

বিকেলে প্রথম দফার ঘটনার প্রতিবাদে নিউমার্কেট মোড়ে মিছিলের আয়োজন করে ছাত্রশিবির। এ সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও ওই এলাকায় অবস্থান নিলে ফের সংঘর্ষ শুরু হয়। খবর পেয়ে বিএনপি ও জামায়াতের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও সেখানে জড়ো হন। দীর্ঘক্ষণ চলা এই সংঘর্ষে হেলমেট পরিহিত একদল যুবককে ধারালো ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আক্রমণে অংশ নিতে দেখা যায়। এ সময় আতঙ্কে ওই এলাকায় যানবাহন চলাচল ও দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কলেজ ক্যাম্পাসের একটি ভবনে জুলাই-আগস্টের গ্রাফিতির নিচে লেখা ছিল ‘ছাত্র রাজনীতি ও ছাত্রলীগ মুক্ত ক্যাম্পাস’। পরবর্তীতে কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী গিয়ে সেখানে ‘ছাত্র’ শব্দটি মুছে তার ওপর ‘গুপ্ত’ লিখে দেন। এই ঘটনার একটি ভিডিও আল মামুন তার ব্যক্তিগত আইডিতে প্রচার করলে দুই সংগঠনের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যা মঙ্গলবার সংঘাতের রূপ নেয়।

চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ শাখা ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক জাহিদুল আলম জয় বলেন, ‘অস্ত্রধারীরা ছাত্রদলের নেতাকর্মী। তাদের মধ্যে রামদা হাতে ওমর গনি এমইএস কলেজ ছাত্রদলের সদস্যসচিব মির্জা ফারুককে শনাক্ত করা গেছে। ছাত্রদলের হামলায় অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হন।’

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি সৌরভ প্রিয় পাল বলেন, ‘শিবিরের নেতাকর্মীরা কলেজ ক্যাম্পাসে ঢুকে হামলা চালিয়েছে। আমাদের ৫ থেকে ৬ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।’

সিটি কলেজের অধ্যক্ষ আবু সালেহ মোহাম্মদ নঈম উদ্দিন বলেন, প্রথম দফায় সংঘর্ষের পর বুঝিয়ে বলার পর শিক্ষার্থীরা সরে গিয়েছিলেন। দুপুর ১২টার পর থেকে কলেজের অভ্যন্তরীণ ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রাখা হয়েছে।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফতাব উদ্দিন বলেন, ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।