নিজস্ব প্রতিবেদক : গত দেড় দশকের ফ্যাসিস্ট শাসনব্যবস্থা ও ‘পশ্য অর্থনীতি’র মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাটের যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, সেই কাঠামো বহাল রেখে বাংলাদেশ এগোতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান জোনায়েদ সাকি।
তিনি বলেন, রাষ্ট্র কাঠামোর আমূল পরিবর্তন ও জাতীয় পুনর্গঠন ছাড়া এই বিপর্যয় থেকে মুক্তি সম্ভব নয়।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
জোনায়েদ সাকি তার বক্তব্যে গত ১৭ বছরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ২০১১ সালে সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের মাধ্যমেই দেশে একদলীয় শাসনের সূত্রপাত ঘটেছিল। সেই অভিসন্ধি থেকেই পরবর্তীতে জনগণের সম্মতি ছাড়া একটি জবরদস্তিমূলক ও ফ্যাসিস্ট শাসনব্যবস্থা চূড়ান্ত রূপ নেয়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের সেই আকাঙ্ক্ষাকে উপলব্ধি করে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের যে রূপরেখা দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নে জাতীয় ঐকমত্য প্রয়োজন। বিশেষ করে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন ও ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় দলগুলোর মধ্যে ন্যূনতম ঐকমত্য ছাড়া এই ট্রানজিশন সফল হবে না।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস বিকৃতি ও শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কের কঠোর সমালোচনা করে সাকি বলেন, শহীদের প্রতিটি সংখ্যা কেবল একটি অঙ্ক নয়, বরং একেকটি জীবন ও স্বপ্ন।
এই আন্দোলনকে সফল করতে রাজনৈতিক দলগুলোর অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৫ জুলাই গণসংহতি আন্দোলন এবং ৬ জুলাই বিএনপি রাজপথে নেমে এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন দিয়েছিল, যা ইতিহাসের রেকর্ডে থাকা প্রয়োজন। ঐকমত্য কমিশন যদি একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়, তবে তা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। জুলাই জাতীয় সনদে যা লিখিত আছে, তা থেকে পিছিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই কারণ এটি রক্তে লেখা দলিল।
দেশের অর্থনৈতিক সংকটের মূলে ‘ক্রনি ক্যাপিটালিজম’ বা লুটেরা পুঁজিবাদকে দায়ী করে জোনায়েদ সাকি বলেন, রাষ্ট্রক্ষমতা ব্যবহার করে ব্যক্তিগত পকেট ভারী করা এবং বিদেশে অর্থ পাচারের যে ধারা তৈরি হয়েছে, তা সমাজকে স্থবির করে দিয়েছে। ফ্যাসিবাদ এই অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ওপরই টিকে থাকে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের ৩১ দফা ও নির্বাচনী ইশতেহারে বর্ণিত অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক নীতিই বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছাতে সাহায্য করবে। বিশেষ করে সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতকে গুরুত্ব দিয়ে সাধারণ মানুষের নাগরিক মর্যাদা ফিরিয়ে আনা এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।
সমাজের বিভাজন ও ঘৃণার রাজনীতির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ফ্যাসিস্টরা ঘৃণা উৎপাদন ও বিভাজনের মাধ্যমে টিকে থাকে। বর্তমানে গণতান্ত্রিক পরিবেশেও সোশ্যাল মিডিয়া বা বিভিন্ন স্তরে ঘৃণার রাজনীতির পুনরুৎপাদন হচ্ছে, যা উদ্বেগের বিষয়। ঘৃণা ও বিভক্তির রাজনীতি বন্ধ করে জাতীয় পুনর্গঠনের কাজে সবাইকে শামিল হতে হবে। তবেই একটি বৈষম্যহীন ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে।