মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২২ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৭ জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

লক্ষ্মীপুরে অটোরিকশা চালক হত্যাকান্ডের মুল হোতা গ্রেফতার

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : লক্ষ্মীপুরে যাত্রী সেজে তিনশ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করে রাজিব হোসেন (১৩) নামে এক কিশোর অটোরিকশাচালককে নিয়ে যাওয়া হয় সুপারি বাগানে। সেখানে গিয়ে অটোরিকশার চাবি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন ঘাতক গিয়াস উদ্দিন শরীফ (৪০)। কিন্তু রাজিব তাকে চাবি দিতে রাজি না হওয়ায় লোহার তৈরি একটি যন্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করেন গিয়াস। এতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় রাজিবের।
লাশ সুপারি বাগানে ফেলে সেখান থেকে অটোরিকশাটি নিয়ে পাশের একটি বাড়িতে রেখে পালিয়ে যান গিয়াস। 
খবর পেয়ে পুলিশ প্রথমে অটোরিকশা ও পরে কিশোর চালকের লাশ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় মামলা হলে পুলিশ ঘাতক গিয়াসকে গ্রেফতারে সক্ষম হয়। 

ভিকটিম রাজিব রায়পুর উপজেলার দক্ষিণ চরআবাবিল ইউনিয়নের বালুধুম গ্রামের মো. মোস্তফার ছেলে।

ঘাতক গিয়াস পার্শ্ববর্তী উত্তর চরআবাবিল ইউনিয়নের চরপাঙ্গাসিয়া গ্রামের খোরশেদ আলম বেপারীর ছেলে। 

মঙ্গলবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এতথ্য জানানো হয়। 

পুলিশ জানায়, গত ১লা মে সন্ধ্যার দিকে কিশোর অটোরিকশাচালক রাজিব তার অটোরিকশা নিয়ে স্থানীয় ফজু মোল্লার স্টেশনে বসেছিল। সেখান থেকে গিয়াস উদ্দিন শরীফ ওরফে সোহেল বয়াতি ওই এলাকার ঝাউডুগী গ্রামে যাওয়ার জন্য তিনশ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করে তার অটোরিকশাতে ওঠেন। তাকে বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে উত্তর চরআবাবিল ইউনিয়নের কেওড়াডুগি গ্রামের বাবুল মাস্টার এবং বীরেন্দ্র মাস্টারের সুপারি বাগানে নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে অটোরিকশার চাবি কেড়ে নিতে চান গিয়াস। চালক রাজিব চাবি দিতে রাজি না হলে রিং জাতীয় একটি যন্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করলে রাজিব মাটিতে লুঠিয়ে পড়েন। পরে ঘাতক গিয়াস অটোরিকশাটি নিয়ে বিষ্ণু মজুমদার নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে রেখে পালিয়ে যান। 

ভিকটিমের পরিবার তাকে খুঁজে না পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ অটোরিকশাটি উদ্ধার করে এবং পরদিন সকালে স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে সুপারি বাগান থেকে রাজিবের লাশ উদ্ধার করে। 

এ ঘটনায় রাজিবের বাবা মো. মোস্তফা বাদী হয়ে রায়পুর থানায় হত্যা মামলা করলে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করে পুলিশ। সোমবার চাঁদপুর সদর উপজেলার বাঘাদি ইউনিয়নের চৌরাস্তা নামক স্থান থেকে ঘাতক গিয়াস উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী জানান, জিজ্ঞাসাবাদে আসামি গিয়াস হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।