মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই বাজার ভরে গেছে মনভোলানো হলুদ আম আর লালচে লিচুতে। এসব ফল দেখতে সুন্দর হলেও এর পেছনে রয়েছে ভয়াবহ এক মরণঘাতী বাস্তবতা। অতি মুনাফার লোভে কেমিক্যাল সিন্ডিকেট অপরিপক্ব আম ও লিচুতে কার্বাইড, ইথোফেন ও ক্ষতিকর হরমোন মিশিয়ে বাজারে ছাড়ছে। এসব ফল খেয়ে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিশুরা ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছে। প্রকাশিত সংবাদে জানা যায়, ২৯ এপ্রিল সাতক্ষীরায় ৯ হাজার কেজি কেমিক্যালযুক্ত আম জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনা প্রমাণ করে, বিষ প্রয়োগের এক মহোৎসব শুরু হয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফলের কৃত্রিম রূপ দিতে ব্যবহৃত ক্যালসিয়াম কার্বাইড শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহারের জিনিস, যা মানবদেহের জন্য চরম বিষাক্ত। এটি পেটে প্রদাহ, বমি ও ডায়রিয়া থেকে শুরু করে দীর্ঘ মেয়াদে ক্যানসার, লিভার ও কিডনি অকেজো হওয়ার মতো মরণব্যাধি সৃষ্টি করে। বিশেষ করে শিশুর জন্য অপরিপক্ব লিচু ও কেমিক্যালযুক্ত আম এনসেফালোপ্যাথির মতো মস্তিষ্কের জটিল রোগের কারণ হতে পারে, যা মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, এই প্রকাশ্য বিষ বাণিজ্যের খবর গণমাধ্যমে বারবার এলেও মাঠ পর্যায়ে কার্যকর নজরদারি এবং বাস্তব ব্যবস্থা গ্রহণের অভাব প্রকটভাবে দেখা যাচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রশাসনের অভিযান চোখে পড়লেও তা যেন কেবল লোকদেখানো পদক্ষেপে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট তদারকি সংস্থাগুলোর ভূমিকা এখানে আরও জোরালো হওয়া উচিত ছিল। কেবল অভিযান পরিচালনা নয়, বরং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও লাইসেন্স বাতিলের মতো কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।
আমরা মনে করি, জনস্বাস্থ্য নিয়ে এই ছিনিমিনি খেলা আর চলতে দেওয়া যায় না। সিন্ডিকেট ভাঙতে হলে বাগানে ফল সংগ্রহের নির্দিষ্ট সময়সীমা (ক্যালেন্ডার) কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। পাশাপাশি ভোক্তাদেরও সচেতন হতে হবে; মৌসুমের আগে কৃত্রিম রঙের ফলের মোহ ত্যাগ করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা, খাদ্য নিরাপত্তা ও ভোক্তা অধিকার-তিনটি সংস্থাকে এক ছত্রে এনে দ্রুত, দৃঢ় ও স্বচ্ছ নীতিমালায় নৈতিকতা ও সতর্কতা প্রতিস্থাপন করতে হবে। এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে জনস্বাস্থ্য পড়বে ভয়াবহ বিপর্যয়ে, ফল মৌসুমের আনন্দ রূপ নেবে বিষাদে।