শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৭ জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

আ. লীগ আমলে সংখ্যালঘুদের ওপর জুলুম হয়েছে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

মুক্তবাণী ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, নির্বাচনী ইশতেহারে পাঁচটি অধ্যায় আছে। প্রথম অধ্যায় রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কার।
অর্থাৎ আমরা চাই আইনের শাসন, আমাদের সরকার জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থাকবে এবং জনগণের অধিকার নিশ্চিত করবে। কারণ, আগে যে পতিত সরকার ছিল, তার না ছিল বৈধতা, না ছিল আইনি কাঠামো।
যার ফলে নিজে লুটপাট চালিয়ে গেছে। জনকল্যাণে কোনো কাজ হয়নি।
জনকল্যাণের নামে যেগুলো হয়েছে, তা তো আপনারা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন।

শুক্রবার (১৫ মে) দুপুরে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার পল্লী উন্নয়ন একাডেমি আয়োজনে প্রতিষ্ঠানটির হলরুমে অনুষ্ঠিত ‘উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর টেকসই জীবনমান উন্নয়নে সমস্যা, সম্ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, দ্বিতীয় বিষয় যেটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, সেটি হলো- বৈষম্যহীন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও টেকসই রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা। কারণ আমরা অনুসন্ধান করেছি, ভবন নির্মাণ করে যেভাবে লুটপাট করা হয়েছে। ঠিক একই কায়দায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসা করা হয়েছে, স্কুল করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় করা হয়েছে। কিন্তু বেকারত্বের যে অভিশাপ পতিত সরকার রেখে গেছে, তা আপনারা প্রতিটি পরিবার হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন। আপনি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যাচ্ছেন, কোনো চিকিৎসা পাচ্ছেন না। অ্যাম্বুলেন্স আছে, অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার নেই। যন্ত্র আছে, যন্ত্র চালানোর মেকানিক নেই।

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, আমরা চাই যে, বাংলাদেশে কর্মসংস্থান হোক। বাংলাদেশের মানুষ সুস্বাস্থ্যের নাগরিক হোক। আমরা চাই নারীর উন্নয়ন হোক। নারীর উন্নয়ন একটা দেশের উন্নয়নের পরিমাপক। আপনারা খেয়াল করেছেন তার (পতিত সরকারের) সময় কী পরিমাণে নারীর প্রতি সহিংসতা করা হয়েছে। কী পরিমাণে জুলুম হয়েছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে যে পরিমাণ জুলুম হয়েছে, যে পরিমাণ অত্যাচার হয়েছে। তা কিন্তু বর্ণনাহীন। আমরা দেখতে চাই, বাংলাদেশে সবার অধিকার আছে। কেউ সংখ্যালঘু না, সবাই রাষ্ট্রের নাগরিক।

পল্লী উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে সেমিনারে গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিমুজ্জামান সেলিম, গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর, গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী, জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান, জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ, খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলার কৃষক নিমাই কুমার রায়সহ অনেকে বক্তব্য দেন।

কৃষক নিমাই কুমার রায় বলেন, বনদস্যুদের আক্রমণ, রাস্তাঘাট অনুন্নত ও স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন হয়নি। এ কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে আমাদের জীবনবাজি রেখে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়। আমরা টেকসই উন্নয়ন চাই। পাশাপাশি জীবনমান উন্নয়নে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের কার্যকরী উদ্যোগ দিতে হবে। তা হলেই আমাদের জীবনমানের সত্যিকারের উন্নয়ন হবে। নতুন সরকার আমাদের প্রত্যাশা পূরণে সর্বাধিক গুরুত্ব দেবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।