বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৩ জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

প্রধানমন্ত্রীর কাছে ‘বিচার কার্ড’ চাইলেন হাসনাত আবদুল্লাহ

নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কার্ড দেওয়া হলেও এবার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ‘বিচার কার্ড’ দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের (দেবিদ্বার) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।

বুধবার রাতে কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের হাসান মেমোরিয়াল সরকারি কলেজ গেট এলাকায় এনসিপি আয়োজিত এক পথযাত্রায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এই দাবি জানান। এ সময় দলটির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

পথযাত্রায় সাম্প্রতিক সময়ে ধর্ষণ ও হত্যার ৭ বছরের শিশু রামিসার প্রসঙ্গ টেনে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘জুলাই আন্দোলন জাতি এজন্য করেনি যে, আজ সাত বছরের একটি শিশুকে ধর্ষণের শিকার হতে হবে। বিচার না পাওয়ার আশঙ্কায় যদি একটি শিশুর পরিবার হতাশ হয়ে পড়ে, তবে তা পুরো রাষ্ট্রের জন্য চরম লজ্জার বিষয়।’

​তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আজ সেই অসহায় শিশুর বাবা বুঝে গেছেন যে তিনি বিচার পাবেন না। সাধারণ মানুষ আজ সর্বত্র নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। মানুষ কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন চায়নি, মানুষ অপরাধের অবসান ও সঠিক ন্যায়বিচার চায়।’

​সরকারের বিভিন্ন কার্ড ব্যবস্থার সমালোচনা করে এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘সরকার জনগণকে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, পেট্রোল কার্ডসহ নানা ধরনের কার্ড দিয়েছে। কিন্তু এখন জনগণের সবচেয়ে বড় দাবি হলো ‘জাস্টিস কার্ড’। এমন একটি বিচারিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে সাধারণ মানুষ দ্রুত ও নিশ্চিত ন্যায়বিচার পাবে।’

​দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আমরা কেবল চাঁদাবাজের পরিবর্তন চাইনি, আমরা চেয়েছি চাঁদাবাজি যেন পুরোপুরি বন্ধ হয়। জনগণ পরিবর্তনের আশায় ভোট দিয়েছিল, কিন্তু তাদের সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।

​সরকারের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নিজেই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সমর্থন চেয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পর সরকার অবস্থান পরিবর্তন করেছে। এভাবে দেশে যদি বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলতে থাকে, তবে দেশের সাধারণ জনগণ একদিন সরকারকে ‘লাল কার্ড’ দেখিয়ে দেবে।’