মো. হাফিজ উদ্দিন:
বাংলাদেশে ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাস অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত শিশু ধর্ষণের অন্তত ১১৮টি অভিযোগ উঠেছে বলে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) সহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার তথ্য এবং মিডিয়া রিপোর্টে জানা যায়। এই সংখ্যা শুধুমাত্র রিপোর্ট হওয়া ঘটনার ভিত্তিতে সংগৃহীত হয়েছে এবং বাস্তবে এর চেয়ে অনেক বেশি ঘটনা ঘটে যা সামাজিক লজ্জা ভয় চাপ বিচারহীনতা এবং পরিবারের নীরবতার কারণে কখনো আলোয় আসে না। আসকের তথ্য অনুসারে জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত ১৮০টি মোট ধর্ষণের ঘটনা রেকর্ড হয়েছে যার মধ্যে ৮১ জন শিকার ছিল নাবালক বা নাবালিকা। এর মধ্যে ৫৬ জন ১২ বছরের নিচের মেয়ে শিশু যাদের মধ্যে ১৬ জন ছয় বছরের নিচে ৪০ জন সাত থেকে বারো বছরের মধ্যে এবং ২৫ জন তেরো থেকে আঠারো বছরের মধ্যে। মে মাসের প্রথমার্ধ পর্যন্ত অতিরিক্ত ঘটনা যোগ হয়ে মোট শিশু ধর্ষণের সংখ্যা ১১৮-এ পৌঁছেছে। ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনাও অন্তত ১৭টি যার বেশিরভাগই শিশু এবং এই পরিস্থিতি দেশের সমাজের গভীর নৈতিক সংকট আইনের শাসনের চরম দুর্বলতা শিশু সুরক্ষার ব্যর্থতা এবং সামগ্রিকভাবে একটি জাতীয় সংকটের চিত্র তুলে ধরেছে।
আসক জানুয়ারি মাসে একাই ৩৫টি ধর্ষণের ঘটনা নথিভুক্ত করেছে যার মধ্যে ২৫টি একক ধর্ষণ এবং ১০টি গণধর্ষণ। এর মধ্যে ১৩ জন শিকার ১২ বছরের নিচের শিশু দুজন ধর্ষণের পর হত্যার শিকার এবং একজন ধর্ষণের পর আত্মহত্যা করেছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ জানুয়ারিতে ৩১টি ধর্ষণের ঘটনা রেকর্ড করেছে যার মধ্যে ১৭ জন কন্যা শিশু এবং ১৪ জন নারী। ফেব্রুয়ারি মার্চ এপ্রিল এবং মে মাসেও এই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। আসকের তথ্যে দেখা যায় যে গত ১৬ মাসে অর্থাৎ ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ এপ্রিল পর্যন্ত অন্তত ৫২২ জন শিশু হত্যার শিকার হয়েছে যার মধ্যে অনেকগুলো যৌন নির্যাতনের সাথে যুক্ত। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের রিপোর্টেও একই ধরনের উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে যেখানে ধর্ষণের পর হত্যা ধর্ষণের চেষ্টা এবং যৌন হয়রানির ঘটনা ক্রমাগত বেড়েছে।
সাম্প্রতিক কয়েকটি ভয়াবহ ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ এবং প্রতিবাদের ঝড় তুলেছে। ঢাকার পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে দ্বিখণ্ডিত করে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় সারা দেশে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং আইনমন্ত্রী তদন্ত প্রতিবেদন এক সপ্তাহের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ময়নাতদন্তে অস্বাভাবিক যৌন নির্যাতনের প্রমাণ মিলেছে এবং প্রধান আসামি সোহেল রানা গ্রেপ্তার হয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। নেত্রকোনায় ১১ বছরের এক শিশুকে মাদ্রাসার শিক্ষক ধর্ষণ করে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা করে দিয়েছে যা জনরোষ সৃষ্টি করেছে এবং আসক এই ঘটনায় দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছে। রামপুরায় শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মাদ্রাসাছাত্র শিহাব হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পাঁচ দিনের রিমান্ড দেওয়া হয়েছে এবং ময়নাতদন্তে বলাৎকারের প্রমাণ মিলেছে। কামরাঙ্গীরচরে সাড়ে চার বছরের শিশুকে প্রতিবেশী ধর্ষণ করেছে। সীতাকুণ্ডে সাত বছরের শিশুকে চকোলেটের লোভ দেখিয়ে নিয়ে যৌন নির্যাতন করে গলা কেটে ফেলে রাখা হয়েছে এবং শিশুটি রক্তাক্ত অবস্থায় বেঁচে ফিরেছে।
এছাড়া কুষ্টিয়ায় ১০ বছরের মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার হলেও দ্রুত বিচারের দাবি উঠেছে। নারসিংদীতে কিশোরীকে গণধর্ষণের পর হত্যা পাবনায় নাতনিকে ধর্ষণের পর হত্যা সহ আরও অনেক ঘটনা মিডিয়ায় এসেছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অপরাধী পরিচিত ব্যক্তি প্রতিবেশী আত্মীয় মাদ্রাসা বা স্কুলের শিক্ষক বা এমনকি পরিবারের সদস্য। এই পরিচিতি শিশুদের নিরাপত্তার অনুভূতিকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেয়। ঢাকায় চার মাসে ২১৪টি ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার মামলা রেকর্ড হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুসারে এপ্রিল মাসে এক মাসেই ২০১১টি নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা দায়ের হয়েছে যা গত নয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।
তদন্তের অবস্থা খুবই দুর্বল। অনেক মামলায় সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহে অবহেলা ফরেনসিক সুবিধার অভাব রাজনৈতিক বা স্থানীয় প্রভাব এবং ভিকটিম পরিবারের উপর চাপের কারণে মামলা ঝুলে থাকে বছরের পর বছর। আদালতে দ্রুত বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল থাকলেও বাস্তবে প্রয়োগ হয় না। রামপুরা এবং পল্লবীর মামলায় রিমান্ডে তদন্ত চলছে কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অপরাধী গ্রেপ্তার হলেও দ্রুত সাজা হয় না। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন আছে কিন্তু প্রয়োগের ঘাটতি স্পষ্ট। আসক বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এবং অন্যান্য সংস্থা বারবার দ্রুত তদন্ত নিরপেক্ষ বিচার ভিকটিম সাপোর্ট এবং শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি জানিয়েছে। ইউনিসেফসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও এই সার্জ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং শিশু সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, রামিসার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার ভেতরে আসামি গ্রেফতার হয়েছে। এই মামলায় যে প্রধান আসামি তার নাম সম্ভবত সোহেল খান। স্ত্রীসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ১৬৪ ধারায় স্টেটমেন্ট দিয়েছে। আমরা এটুকু এসিওরেন্স দিতে পারি, আমাদের পক্ষ থেকে সংক্ষিপ্ত সময়ের ভেতরে সুষ্ঠু তদন্ত করে চার্জশিট দাখিল করা হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ সব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিচারের দায়িত্ব আদালতের। বিচারহীনতার যে বিষয়টা সবাই সবসময় বলে থাকে, এটা সর্বক্ষেত্রে সঠিক নয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিচার বিলম্বিত হয়। সে জন্য মানুষ মনে করে হয়তো বিচার পাবে না। কিন্তু এই জাতীয় ক্রাইমগুলো আমি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও দেখেছি। আমি তাদের কৃতিত্ব দিতে চাই, সেই সময়েও এই জাতীয় কয়েকটা ঘটনা হলে হেনিয়াস ক্রাইমের সংক্ষিপ্ত সময়ের ভেতরে আইনি ব্যবস্থা, বিচারিক ব্যবস্থা তারা গ্রহণ করেছে। এ ক্ষেত্রে আমি এইটুকু এসিওরেন্স দিতে পারি, সম্ভাব্য সংক্ষিপ্ত সময়ের ভেতরে একটা দৃষ্টান্তমূলক বিচার সম্পন্ন হবে। সাজার কথা আমি বলতে পারবো না।
তিনি বলেন, আমরা এখন মধ্যযুগে নাই। আমরা আধুনিক যুগে, আইন সংস্কারটা একটা চলমান প্রক্রিয়া। সমাজের চাহিদা অনুসারে সব আইনকে আপটুডেট করতে হয় এবং যুগোপযোগী করতে হয়। সেগুলো চলমান প্রক্রিয়া। সেগুলো তো আছেই। বিভিন্ন আইনে অবশ্যই আমাদের কিছু কিছু সংশোধন আনতে হবে। সেটা আমরা দেখবো। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে এটাও চিন্তা করতে হয়, খুব সংক্ষিপ্ত বিচারের মাধ্যমে আবার অবিচার করা হচ্ছে কিনা বা এমন কিছু হয় যে আমরা খুব কঠোরতম আইন প্রয়োগ আইন প্রণয়ন করলাম, প্রয়োগের ক্ষেত্রে সেটা আবার মিসইউজ হচ্ছে কিনা, অপব্যবহার হচ্ছে কিনা, এগুলো লক্ষ রাখতে হয়।
সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, এখন কোনও ঘটনা ঘটলো সে জন্য একটা চটজলদি করে আইন প্রণয়ন করে ফেলা এবং কোনও আদালত সৃষ্টি করে ফেলা, এগুলো ইমোশনালি করা যায় না। এটা বৃহত্তর ক্যানভাসে দেখতে হয়। যেমন- মাগুরায় একটা ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল। এটা নিয়ে তোলপাড় হলো এবং এখানে বোধহয় কিছু আইনি সংশোধন নিয়ে এসে সংক্ষিপ্ত সময়ের ভেতরে বিচারকার্য সম্পন্ন হয়েছে। এটা সময়ের দাবি ছিল। কিন্তু সেটার দীর্ঘমেয়াদে কী হবে না হবে, সে আইনগুলো চিন্তা করতে হয়।
তিনি আরও বলেন, শিশু ধর্ষণের ক্ষেত্রে আদালত প্রতিষ্ঠা করা হলো, একটা ট্রাইব্যুনাল করা হলো। দেখা গেলো, সেই একই এখতিয়ার নারী ও শিশু আদালতে দেওয়ার মতো বিধান করা যায়, আদালতের সংখ্যা বৃদ্ধি না করেও। কারণ এখানে রেভিনিউ এক্সপেন্ডিচারের বিষয় আছে। আদালত সেটআপের করার বিষয় আছে, জনবলের বিষয় আছে। তখন দেখা যাবে যে ৬৪ জেলায় আদালত আমরা করলাম। ক্রাইম করলাম, দেখা যাবে মামলার সংখ্যা কোথাও দুইটা কোথাও ১০টা, কোথাও নাই। এগুলো সব বিবেচনায় নিয়ে যেভাবে, মানে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব, সেভাবে এগুলো আবার করা যায়। কিন্তু ওই সাময়িক সময়ের জন্য জনগণের যে ক্ষোভ সেটাকে মিটানোর জন্য যদি আমরা সব বিষয়ে দ্রুততম আইন প্রণয়ন করি বা আদালত সৃষ্টি করি, সেই বিষয়টা আমার মনে হয় সব ক্ষেত্রে সঠিক নয়।
তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের করণীয় কিছু অপরাধ আছে, সেটা অপরাধ কমানোর জন্য প্রো-অ্যাক্টিভ কাজ করি আমরা। যেমন-মাদকবিরোধী অভিযান চলছে, চাঁদাবাজি সন্ত্রাসীবিরোধী অভিযান চলছে। এটা হলো অনেকটা প্রো-অ্যাক্টিভ, যাতে অপরাধগুলো কম হয়। কিন্তু এই জাতীয় অপরাধগুলো ধর্ষণ হত্যায় এগুলো হচ্ছে সংঘটিত হওয়ার পরে পুলিশের যে অ্যাক্টিভিটিস করণীয় সে বিষয়ে আমি বলতে পারি। আমরা দায়িত্বে আসার পর এ পর্যন্ত যতগুলো হেনিয়াস ক্রাইম এই জাতীয় রয়েছে, আপনারা কি কেউ একটা ক্রাইমের ক্ষেত্রেও বলতে পারবেন, পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করেনি এবং সংক্ষিপ্ত সময়ের ভেতরে তারা অ্যারেস্ট করতে পারেনি। একটাও নেই। আমার কাছে তালিকা সবগুলো আছে। যদি তার ব্যত্যয় কিছু হয়ে থাকে আপনারা প্রশ্ন তুলতে পারবেন।
গবেষণা ও বিশ্লেষণে দেখা যায় যে শিশুরা সবচেয়ে ঝুঁকিতে কারণ তারা অসচেতন এবং পরিচিতদের বিশ্বাস করে। দারিদ্র্যপীড়িত রাস্তার শিশু প্রতিবন্ধী শিশু এবং গ্রামীণ এলাকার শিশুরা বেশি শিকার। অনলাইন যৌন নির্যাতনও বেড়েছে। সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন পারিবারিক বন্ধনের দুর্বলতা বেকারত্ব ড্রাগসের অপব্যবহার সামাজিক অস্থিরতা বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং শিক্ষার অভাব এর প্রধান কারণ। আসক এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের দীর্ঘমেয়াদি রিপোর্টে দেখা যায় যে গত কয়েক বছরে ধর্ষণের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং শিশু ভিকটিমের অনুপাত প্রায় অর্ধেক। ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে অপরাধী পরিচিত। সামাজিক লজ্জার বোঝা ভিকটিমের পরিবারের উপর চাপিয়ে অপরাধীদের সাহস বাড়ানো হয়। শিক্ষা ও যৌন সচেতনতার অভাবও বড় সমস্যা।
এই ঘটনাগুলোর প্রভাব অত্যন্ত ভয়াবহ। শিশুরা সারাজীবন মানসিক ট্রমায় ভোগে শিক্ষা ছেড়ে দেয় সমাজে ফিরতে পারে না এবং অনেকে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। পরিবারগুলো ভেঙে পড়ে সমাজ হিসেবে আমরা একটা বড় সংকটের মুখে পড়ছি। শিশুরা দেশের ভবিষ্যৎ তাদের নিরাপত্তা না থাকলে কোনো উন্নয়ন টেকসই হবে না। এই সংকট সমাধানে আইনের কঠোর প্রয়োগ দ্রুত বিচার শিশু সুরক্ষা আইনের সঠিক বাস্তবায়ন জনসচেতনতা কর্মসূচি ফরেনসিক সুবিধা বাড়ানো বিশেষ ট্রাইব্যুনালের কার্যকরতা এবং সমাজের মূল্যবোধ পুনর্নির্মাণ জরুরি। ধর্মীয় নেতা শিক্ষক সমাজপতি এবং গণমাধ্যমকে এই বিষয়ে সোচ্চার হতে হবে যাতে অপরাধী কোনো আশ্রয় না পায়। সরকারকে শিশু বিষয়ক বিশেষ বিভাগ গঠন করে এই সংকট মোকাবিলা করতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিটি নাগরিক পরিবার সমাজ সংস্থা এবং সরকারকে একসাথে কাজ করতে হবে। শুধু প্রতিবাদ নয় দীর্ঘমেয়াদি সমাধান চাই। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা সামাজিক সচেতনতা নৈতিক পুনর্জাগরণ এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি ছাড়া এই অভিশাপ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়। শিশুদের হাসি ফিরিয়ে আনতে না পারলে আমাদের সব উন্নয়ন অর্থহীন হয়ে যাবে। এখনই সময় জেগে ওঠার এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই সংকটকে জয় করার।