বাগেরহাট প্রতিনিধি : কুরবানির ঈদে অতিথি আপ্যায়ন ও খাবারের পর মুখশুদ্ধির জন্য পানের চাহিদা বেড়ে যায়। তাই ঈদ এলেই পানের হাটে বাড়তি কর্মচাঞ্চল্য দেখা দেয় বলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান।
কুরবানির ঈদে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার টাউন নওয়াপাড়া পানের হাটে বেড়েছে বেচাকেনা। স্বাদে ঝাঁঝালো এই পানের বাড়তি চাহিদা থাকায় অন্য সময়ের তুলনায় প্রতি পোণ (৮০টি) পানের দাম বেড়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত। বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি পোণ বড় পান বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৭০ টাকায়। খুচরা পর্যায়ে যা প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি হয়। ছোট পানের দাম তুলনামূলক কম।
বুধবার (২৮ মে) হাটের দিন সরেজমিনে দেখা যায়, ফকিরহাট নীল সরোবর দিঘির কিনারা ঘেঁষে বসা টাউন নওয়াপাড়া পানের হাটজুড়ে চলছে পান বাছাই, গুছানো ও বিক্রির জন্য ব্যস্ততা। চাষি ও ব্যবসায়ীরা ভোর থেকে পান সাজিয়ে বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পাইকাররা ট্রাকযোগে এসব পান নিয়ে যাবেন দূর-দূরান্তে।
পান ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক বলেন, ঈদের সময় পান বিক্রি সবচেয়ে বেশি হয়। এখন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকার আসছেন। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৮ শতকে জমিদার শৈলেন্দ্রনাথ ঘোষের পূর্বপুরুষ এ হাট স্থাপন করেন। সেই থেকে প্রতি রোববার ও বৃহস্পতিবার এখানে হাট বসে। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী এ হাট দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বড় পানের বাজার হিসেবে পরিচিত।
শওকত শেখ, কৃষ্ণচন্দ্র ঘোষসহ চাষিরা জানান, এ অঞ্চলের পানের আলাদা কদর রয়েছে। ঝাঁঝালো স্বাদ, পুরু ও মচমচে পাতার কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এ পানের চাহিদা বেশি। এছাড়া পান চাষে রাসায়নিকের পরিবর্তে প্রাকৃতিক সরিষার খৈল ব্যবহার করায় এ এলাকার পান দীর্ঘসময় সতেজ থাকে এবং সহজে নষ্ট হয় না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শেখ সাখাওত হোসেন বলেন, ফকিরহাটে ছোট-বড় মিলিয়ে কয়েক হাজার পানের বরজ রয়েছে। পান এ অঞ্চলের অন্যতম অর্থকরী ফসল। আলাদা স্বাদ ও বৈশিষ্ট্যের কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এ পানের বাড়তি কদর রয়েছে।