সোমবার, ১ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৪ জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

ছুটির শেষ দিনেও চিড়িয়াখানায় আকর্ষণের কেন্দ্র ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’

নিজস্ব প্রতিবেদক : পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দঘন ছুটির শেষ দিনেও মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানায় মানুষের ঢল নেমেছে। সকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে আসতে শুরু করেন হাজারো দর্শনার্থী। শিশুদের উচ্ছ্বাস, অভিভাবকদের ব্যস্ততা আর প্রাণীদের কৌতূহলী নড়াচড়া এক ভিন্ন রকম উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করেছে। তবে এবারের ঈদে দর্শনার্থীদের আগ্রহের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে এক অ্যালবিনো মহিষ, যাকে সবাই ডাকছে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামে।
মিরপুর চিড়িয়াখানার প্রধান ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন ফারুক হোসেন। সঙ্গে স্ত্রী ও দুই সন্তান। ছোট ছেলেটি বারবার প্রশ্ন করছে, বাবা ওই সাদা মহিষটা কই? হাতে টিকিট, চোখে অপেক্ষা আর মুখে সন্তানের কৌতূহল সামলানোর চেষ্টা।
ঈদের ছুটির শেষ দিন হওয়ায় অনেকেই পরিবার নিয়ে শেষবারের মতো ঘুরে নেওয়ার সুযোগটি কাজে লাগিয়েছেন। ঢাকার বাইরে থেকেও অনেক দর্শনার্থী এসেছেন। নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মুন্সিগঞ্জসহ আশপাশের জেলা থেকেও বাস, প্রাইভেটকার ও রিকশায় করে মানুষ ছুটে আসেন মিরপুরের এই প্রাণিকেন্দ্রে। প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে বাঘ, সিংহ, হাতি, জিরাফ, হরিণ ও বানরের খাঁচার সামনে উপচে পড়া ভিড়।

চিড়িয়াখানার ভেতরে শিশুদের তুলনামূলক বেশি আকর্ষণ ছিল প্রাণীদের দিকে। ছোট্ট রাইসা খাঁচার সামনে দাঁড়িয়ে বারবার হাতির দিকে ইশারা করছে, পাশে দাঁড়িয়ে মা তাকে বুঝিয়ে দিচ্ছেন কীভাবে হাতি খাবার খায়। অন্যদিকে একদল শিশু বানরের খাঁচার সামনে দাঁড়িয়ে হাসাহাসি করছে, কেউ আবার মোবাইলে ভিডিও করছে। পুরো চিড়িয়াখানায় যেন শিশুদের উচ্ছ্বাসই সবচেয়ে বেশি স্পষ্ট।
তবে এই সব কিছুর মাঝেও আলাদা করে নজর কাড়ছে আলোচিত অ্যালবিনো মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। চিড়িয়াখানার নির্দিষ্ট অংশে রাখা এই মহিষটিকে এক নজর দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন দর্শনার্থীরা। সাদা রঙের অদ্ভুত শরীর আর শান্ত ভঙ্গিমার কারণে এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বেশ আলোচনায় এসেছে। ফলে খাঁচার সামনে দাঁড়ালেই দেখা যাচ্ছে মানুষের দীর্ঘ সারি। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার কেউ দূর থেকে শুধু তাকিয়ে রয়েছেন।
গুলশান এলাকার বাসিন্দা সোহেল রানা বলেন, ফেসবুকে অনেক দিন ধরে দেখছিলাম এই সাদা মহিষটা নিয়ে আলোচনা চলছে। তাই আজ পরিবার নিয়ে সরাসরি দেখতে এলাম। বাস্তবে দেখার অনুভূতিটা আলাদা।
তার পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা আরেক দর্শনার্থী মেহেরুন নাহার বলেন, ঈদের ছুটির শেষ দিনটাকে একটু ভিন্নভাবে কাটাতে চেয়েছিলাম, তাই এখানে আসা। ভিড় আছে, তবে পরিবেশ উপভোগ্য।
চিড়িয়াখানার ভেতরে দুপুরের দিকে রোদ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক দর্শনার্থীকে ছায়াযুক্ত জায়গায়, বিশ্রামাগারে বা লেকপাড়ে বসে বিশ্রাম নিতে দেখা যায়। কেউ কেউ আইসক্রিম খাচ্ছেন, কেউ ঠা-া পানীয় পান করছেন, আবার কেউ পরিবারের সঙ্গে ছবি তুলছেন। পুরো পরিবেশে এক ধরনের ক্লান্তির মাঝেও আনন্দের ছাপ স্পষ্ট।

জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. মো. আতিকুর রহমান বলেন, ঈদুল আজহার ছুটিতে প্রতিদিনই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দর্শনার্থী এসেছে। আজ ছুটির শেষ দিনেও মানুষের উপস্থিতি সন্তোষজনক। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শনিবার এক লাখের বেশি দশর্নার্থী এসেছিল, তার আগের দিন ৮০ হাজারের মত, ঈদের দিন ১৬ হাজারের মত। তবে রোববার সবচেয়ে বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
চিড়িয়াখানার পরিচালক ড. মোহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, দর্শনার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং নিরাপত্তাকর্মীরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।