বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৬ জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

ভূমি কমিশন কার্যকর করতে সন্তু লারমার সহযোগিতা চাইলেন ওয়াদুদ ভূইয়া এমপি

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি : পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি কমিশন কার্যকর করতে সন্তু লারমার সহযোগিতা চেয়েছেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া| একই সাথে খাগড়াছড়ি তথা তিন পার্বত্য জেলায় টেকসই শান্তি, উন্নয়নসহ দীর্ঘমেয়াদী শান্তি বজায় রাখতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিকল্প নেই| স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা হলে এখানে উন্নয়ন আরও টেকসই ও জনমুখী হবে|

মঙ্গলবার বিকেলে খাগড়াছড়ির বিশিষ্টজনদের সাথে শিশু একাডেমী মিলনায়তনে জেলা বিএনপি আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন|

সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া বলেন, নির্বাচনের আগে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আমি সকলের সহযোগীতা চাই| মনে রাখতে হবে পাহাড়ে দৃশ্যমান উন্নয়নের পূর্ব শর্ত হলো স্থায়ী শান্তি বজায় রাখা|
পাহাড়ের সমস্যা গুলো এড্রেসিং করে সংসদ সদস্য আরও বলেন, পাহাড়ের বড় সমস্যা ভূমি বিরোধ| অনেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি কমিশনকে কার্যকরের কথা বলছেন| আমি যতদূর জানি ভূমি কমিশন পূর্ণাঙ্গ কার্যকর করতে আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান সন্তু লারমার আন্তরিকতা দরকার| তিনি এগিয়ে আসলে সরকারও এগিয়ে আসবে| পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা রাতারাতি যেমন সমাধান সম্ভব নয়, আবার অসমাধানযোগ্যও নয়| আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে হবে| খাগড়াছড়ি সংসদীয় আসনে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে তিনি সকল পাহাড়ি বাঙ্গালী থেকে সুশীল সমাজদের দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান|

এ ছাড়া নানা শ্রেণী পেশার মানুষের কাছ থেকে উঠে আসা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও নাগরিক সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দেন|
মতবিনিময় সভায় খাগড়াছড়ি আসনের সাবেক সংসদ সদস্য যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা, শিক্ষাবীদ প্রফেসর ড. সুধীন কুমার চাকমা, প্রফেসর বোধিসত্ব দেওয়ান, মারমা উন্নয়ন সংসদের কেন্দ্রীয় সভাপতি মংপ্রু মারমা, চাকমা সমাজের প্রতিনিধি প্রবীণ চন্দ্র চাকমা, মারমা ঐক্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা ম্রাসাথোয়াই মারমা, উন্নয়ন কর্মী অরুণ কান্তি চাকমা সহ বিশিষ্টজনেরা এ সময় বক্তব্য রাখেন|
বক্তারা বলেন, পাহাড়ের মানুষ যোগ্য মনে করে ওয়াদুদ ভূইয়াকে খাগড়াছড়ি আসন থেকে নির্বাচিত করেছেন| এখন প্রত্যাশা করেন তিনি দল মত নির্বিশেষে সকলের জন্য কাজ করবেন| পাহাড় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে সব মিথ্যাচার, গুজব বাতাসের গতিতে ছড়িয়ে পড়ে এসব সমস্যা চিহ্নিত করে তা নিরসনে কাজ করতে হবে| অপরাধী যে সম্প্রদায়ের বা মতের হোক তাকে শাস্তির আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করা গেলে সম্প্রীতির অনন্য নজির স্থাপন ও সমস্যা অনেকাংশ সমাধান হবে বলে মত দেন|