নিজস্ব প্রতিবেদক : ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের নিয়োগ বাতিল ও পদত্যাগের দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’।
বুধবার (৩ জুন) সকালে রাজধানীর মতিঝিলের দিলকুশায় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়।
পরে মিছিলটি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশে আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রয়োজনে জীবন দিয়েও তারা খুরশীদ আলমকে ব্যাংকে প্রবেশ করতে দেবেন না। তিনি ব্যাংকে প্রবেশের চেষ্টা করলে প্রধান কার্যালয় ঘেরাও করা হবে বলেও ঘোষণা দেওয়া হয়।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংককে আবারও একটি ‘লুটেরা গোষ্ঠীর’ হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক অবস্থানেরও সমালোচনা করেন এবং অবিলম্বে চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমকে অপসারণের দাবি জানান। একই সঙ্গে পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের রাতে কোনো বোর্ড সভা আয়োজন না করার আহ্বান জানান।
এর আগে মঙ্গলবার সকাল থেকে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে কর্মসূচি শুরু হয়। আন্দোলন ঘিরে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
প্রস্তুত রাখা হয় জলকামান ও সাজোয়া যান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল থেকে গ্রাহক, শেয়ারহোল্ডার এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ব্যাংকের সামনে জড়ো হয়ে স্লোগান দেন ও বক্তব্য রাখেন।
সোমবারের আন্দোলনের কারণে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের নির্ধারিত সভা সশরীরে অনুষ্ঠিত করা সম্ভব হয়নি। পরে রাতে নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, ওই সভায় ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুক খানের জমা দেওয়া পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে।
নতুন এমডি নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত আলতাফ হোসাইন ভারপ্রাপ্ত এমডির দায়িত্ব পালন করবেন।
আরিফ হোসেন খান বলেন, রাজপথের আন্দোলনের ভিত্তিতে কোনো ব্যাংকের চেয়ারম্যান পরিবর্তন করা হবে না। বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের সিদ্ধান্তে অনঢ় রয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, খুরশীদ আলমের বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগের অনেকগুলোই ভিত্তিহীন। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে তার ব্যক্তিগত নামে কোনো ঋণ নেই; তার স্ত্রীর নামে একটি ঋণ রয়েছে, যা বর্তমানে খেলাপি অবস্থায় আছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমান উত্তেজনা শুধু চেয়ারম্যান নিয়োগ বা সাবেক এমডির পুনর্বহালের দাবিকে কেন্দ্র করে নয়; বরং ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নও এর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সচেতন গ্রাহক ফোরামের অভিযোগ, সাবেক এমডি ওমর ফারুক খানকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে এবং সরকার আবারও এস আলম গ্রুপকে ইসলামী ব্যাংকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
একসময় ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ জামায়াতপন্থী গোষ্ঠীর হাতে ছিল। ২০১৭ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ এস আলম গ্রুপের হাতে যায়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে ইসলামী ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে প্রায় ৮৫ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, এর একটি বড় অংশ বিদেশে পাচার হয়েছে, যা নিয়ে তদন্ত চলছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পুনর্গঠিত ব্যাংকগুলোর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক অন্যতম। সম্প্রতি চেয়ারম্যান এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করলে গত ২৪ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
নিয়োগের পর থেকেই বিভিন্ন ব্যানারে তার বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন একদল গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডার। এর ধারাবাহিকতায় টানা কয়েকদিন ধরে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।