বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৪ জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

পশু-পাখির নিরাপদ আবাসস্থল খাগড়াছড়ি বন বিভাগের সদর রেঞ্জ এলাকা

এইচ এম প্রফুল্ল, খাগড়াছড়ি : খাগড়াছড়ি শহরের মধ্যে বন বিভাগের এক কার্যালয়ের আঙ্গিনায় গড়ে উঠেছে টিয়া পাখির নিরাপদ আবাসস্থল| দীর্ঘ ১ যুগ ধরে একই এলাকায় আবাসস্থল থাকলেও বন বিভাগের নজরদারি থাকায় কেউ শিকার বা বিরক্ত করতে পারে না| ফলে ধীরে ধীরে খাগড়াছড়ি বন বিভাগের সদর রেঞ্জের এলাকাটি টিয়া পাখি ও মুখ পোড়া হনুমানসহ বিভিন্ন বণ্য প্রাণীর অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে|পাখির খাদ্য হিসেবে সম্প্রতি লাগানো হয়েছে জাম, বট, পেয়ারা ও ডেউয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ|বর্তমানে বন উজাড়, বৃক্ষ নিধনসহ পরিবেশ বিপর্যয়ের বিরূপ প্রভাবে যেখানে গহীন অরণ্যেও এখন পাখির ঝাঁক দেখা মিলে কম সেখানে ভিন্ন চিত্র খাগড়াছড়ি শহরে|খাগড়াছড়ি গেইট সংলগ্ন বন বিভাগের সদর রেঞ্জ কর্মকর্তার অফিস প্রাঙ্গণের সাড়ে ৩ একর বনভূমিতে নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলেছে বন বিভাগ। এক যুগের বেশী সময় ধরে রেঞ্জ কর্মকর্তা কার্যালয়ের ছোট বড় গাছে থাকছে টিয়া পাখির ঝাঁক| প্রতিদিন ভোরে খাবারের সন্ধানে বেরিয়ে পড়লেও সন্ধ্যার আগে ফিরে আসে| প্রজনন সময়ে কম থাকলেও অন্যান্য সময়ে প্রতিটি গাছে দেখা যায় টিয়া পাখির ঝাঁক| জনবসতিপূর্ণ কয়েকটি গ্রাম থাকলেও কেউ পাখিদের বিরক্ত কিংবা শিকার করেনা| এ জন্য আবার পাহারায় থাকেন বন বিভাগের প্রহরীরাও| পাখির কিচির-মিচির শব্দ মুগ্ধ করে দর্শানার্থীদেরও|
লালবুক টিয়া পাখির ছবি ফ্রেমবন্দী করেছেন ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফার ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক সংগঠক সমীর মল্লিক| তার দাবি পার্বত্য চট্টগ্রামে এক সময় ৫ শতাধিক প্রজাতির পাখি থাকলেও এখন অনেকটা বিপন্নের পথে| প্রাণ প্রকৃতি রক্ষায় আইনের প্রয়োগের পাশাপাশি সচেতনতা সৃষ্টির ওপর জোর দেয়ার কথা বলছেন তিনি|
খাগড়াছড়ি সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা এস এম মোশাররফ হোসেন বলেন,পাখিদের নিরাপদ আশ্রয় ধরে রাখার পাশাপাশি খাদ্যের যোগান দিতে চলতি বছর বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে বলছে বন বিভাগ|
খাগড়াছড়ি বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো: ফরিদ মিয়া বলেন, খাদ্য উপযোগী ও নিরাপদ আবাসস্থল সৃষ্টির লক্ষ্যে বনায়নের কারণে বন্যপ্রাণী ও পাখির বসবাসের সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। শুধু টিয়া পাখি নয়, সব প্রজাতির বণ্য প্রাণী রক্ষায় বন বিভাগ সচেষ্ট রয়েছে | অপরদিকে বন বিভাগের শিকার ও পাচার বিরোধী কঠোর নজরদারীর কারণে বন্যপ্রাণীরা নির্ভয়ে বসবাস করতে পারছে | বন বিভাগের এসব ফলপ্রসূ উদ্যোগের কারণে এখন মুখপোড়া হনুমান, বানর, গুইসাপ, তক্ষক, বনমোরগ, হরিণ, লজ্জাবতী বানর, মেছোবাঘ, বিভিন্ন প্রজাতির সাপ, বিলুপ্ত প্রায় গন্ধগোকুল, চশমা পরা হনুমান, ধনেশ, হিল ময়না, মদনা টিয়াসহ অনেক বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী ও পাখি এখন খাগড়াছড়ির বনাঞ্চলে দেখা যাচ্ছে|কঠোর নজরদারীর পাশাপাশি সাধারণ জনগণের মাঝে বন্যপ্রাণী রক্ষায় সচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম ও বন বিভাগের পক্ষ থেকে চলমান রয়েছে বলে জানান | তিনি বলেন, বন্যপ্রাণী নির্ভয়ে বনে বাস করবে | প্রকৃতিপ্রেমীরা তাদেরকে নিরাপদ দূরত্ব থেকে দেখবে এবং আনন্দ পাবে | কোনভাবে বন্যপ্রাণীকে ক্ষতি করবে না, তাহলেই প্রকৃতি সুন্দর থাকবে| বন্য প্রাণীর প্রতি সকলে সদয় হবে তাদের প্রতি ভালোবাসা থাকবে এটাই বন বিভাগের প্রত্যাশা |
খাগড়াছড়ি বন বিভাগের মতো সুপরিকল্পিত উদ্যোগ ও ব্যবস্থা নেয়া হলে সারাদেশ হতে পারে বিভিন্ন প্রজাতির বন্য প্রাণীর অভয়াশ্রম|