বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৪ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২ মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

বিমানে পদোন্নতি বিতর্ক : সকালে দায়িত্ব, বিকেলেই প্রত্যাহারে আলোচনায় শাহনাজ বেগম

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সে কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও দায়িত্ব প্রদান প্রক্রিয়া নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে। নানা অভিযোগ ও বিতর্কের মধ্যে থাকা ফ্লাইট সার্ভিস বিভাগের ব্যবস্থাপক শাহনাজ বেগমকে উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সূত্রগুলো বলছে, সম্প্রতি শাহনাজ বেগমকে ডিজিএম পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে আদেশ জারি করা হয়। তবে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে একই দিন সেই দায়িত্ব প্রত্যাহার করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিমানে কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও দায়িত্ব বণ্টন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বিমান কর্মীদের একটি অংশের অভিযোগ, চাকরিতে যোগদানের প্রায় ৩৩ বছর পর জন্মতারিখ সংশোধনের মাধ্যমে শাহনাজ বেগম চাকরির মেয়াদ এক বছর বৃদ্ধি করেন। এ ছাড়া তার শিক্ষাগত যোগ্যতা সংক্রান্ত নথিপত্র নিয়েও বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফল প্রকাশ করা হয়নি।

আরও অভিযোগ রয়েছে, শিডিউলিং ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি পক্ষপাতমূলকভাবে ফ্লাইট ডিউটি বণ্টন করেছেন, যার কারণে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগকারীদের দাবি। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় অভ্যন্তরীণ অসন্তোষও তৈরি হয়েছিল বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মী অভিযোগ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বহনকারী বিশেষ ফ্লাইটে ক্রু নির্বাচন নিয়েও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। পরবর্তীতে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কয়েকজন ক্রুকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে তারা দাবি করেন।

এদিকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট একটি মামলায় শাহনাজ বেগমের নাম আসামি হিসেবে উল্লেখ থাকার পরও তাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হয়েছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেক কর্মী। তাদের মতে, অভিযোগগুলো নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে শাহনাজ বেগমের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের মুখপাত্র বোসরা ইসলাম বলেন, ‘ম্যানেজার শাহনাজ বেগমকে ডিজিএম হিসেবে স্থায়ী পদোন্নতি দেওয়া হয়নি, অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন মনে না করলে সেই দায়িত্ব প্রত্যাহার করতেই পারে।’

ঘটনাটি নিয়ে বিমানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তারা দায়িত্ব প্রদান ও পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় অধিক স্বচ্ছতা এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।