স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জাপানের জন্য যেন একই গল্প বারবার ফিরে আসে। শেষ পর্যন্ত দারুণ লড়াই করে এবারও বিদায় নিতে হয়েছে সামুরাই ব্লুকে। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে ২–১ ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায় তারা।
এর মাধ্যমে টানা তৃতীয় বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা হলো জাপানের। আর বিশ্বকাপের ইতিহাসে নকআউট পর্বে পঞ্চমবারের মতো পরাজয়ের পরও প্রথম জয়ের অপেক্ষা রয়ে গেল তাদের।
ম্যাচ শেষে জাপানের কোচ হাজিমে মোরিয়াসু বলেন,‘এবার আমরা আমাদের লক্ষ্য পূরণ করতে পারিনি। তবে সামনে আরও একটি বিশ্বকাপ আছে, প্রয়োজনে তার পরেরটিও আছে। আমরা সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে যাব, যেমনটি এতদিন করে এসেছি।’
চার বছর আগে শেষ ষোলোতে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিয়েছিল জাপান। তারও চার বছর আগে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ২–০ গোলে এগিয়ে থেকেও যোগ করা সময়ে গোল হজম করে ৩–২ ব্যবধানে হেরেছিল তারা।
মোরিয়াসু বলেন, ‘ইতিহাস আমাদের প্রতি খুব একটা সদয় নয়। কিন্তু যদি আমরা আজকের এই বাধা অতিক্রম করতে পারি, তাহলে একদিন নিশ্চয়ই ইতিহাস বদলে যাবে।’
সোমবারের ম্যাচে শুরুটা ছিল জাপানের স্বপ্নের মতো। ২৯তম মিনিটে কাইশু সানোর গোলে এগিয়ে যায় দলটি। তবে ৫৬তম মিনিটে কাসেমিরোর হেডে সমতা ফেরায় ব্রাজিল। এরপর যোগ করা সময়ের শেষ দিকে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির জয়সূচক গোলে স্বপ্নভঙ্গ হয় জাপানের।
জাপানের গোলরক্ষক জায়ন সুজুকি ম্যাচে চারটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন। বিশ্বের অন্যতম সেরা দলের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখালেও হারের হতাশায় ম্যাচ শেষে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
এ পর্যন্ত ১৫টি মুখোমুখি লড়াইয়ে ব্রাজিলকে মাত্র একবার হারাতে পেরেছে জাপান। দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে, আর একমাত্র জয়টি এসেছিল গত অক্টোবরে একটি প্রীতি ম্যাচে।
মোরিয়াসু বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে ব্রাজিলের ব্যবধান এখন অনেকটাই কমে এসেছে। তারা বিশ্বের সেরা দলগুলোর একটি, আর আমরাও ধীরে ধীরে সেই পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছি।’
চার বছর আগের কাতার বিশ্বকাপের হতাশার প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের আরও উন্নতি করতে হবে।’
ম্যাচ শেষে খেলোয়াড়দের উদ্দেশে তিনি বলেন, এই পরাজয়ের কষ্ট যেন তারা মনে রাখে এবং সেটিকেই ভবিষ্যতে আরও ভালো হওয়ার অনুপ্রেরণা হিসেবে ব্যবহার করে। পাশাপাশি হারের দায় নিজের কাঁধেও নেন এই প্রশিক্ষক।
তার ভাষায়, ‘বিশ্বকাপ জেতাই ছিল আমাদের স্বপ্ন এবং লক্ষ্য। কিন্তু আমরা তা অর্জন করতে পারিনি। প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে আমি খেলোয়াড়দের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছি। কারণ আমি তাদের সেই লক্ষ্য পূরণ করার মতো পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারিনি।’
এদিকে দলের বিদায়েও জাপানের সমর্থকদের ভালোবাসা কমেনি। স্থানীয় সময় ভোর চারটার দিকে ম্যাচ শেষ হলেও টোকিও টাওয়ারের কাছে বড় পর্দায় খেলা দেখতে জড়ো হয়েছিলেন অসংখ্য সমর্থক।
সমর্থক মিয়ু হাসিগুচি বলেন, ‘যত কঠিন পরিস্থিতিই আসুক, আমাদের খেলোয়াড়রা কখনও হাল ছাড়েনি। তাদের সবাইকে ধন্যবাদ। তারা আমাকে জীবনের প্রতিটি চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার সাহস জুগিয়েছে।’