বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২১ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২১ সফর, ১৪৪৮ হিজরি

২৪ ছিল স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধ, দেশে আর স্বৈরাচার কায়েম হবে না : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : ১৯৭১ সাল ছিল স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ, আর ২০২৪ সাল ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধ। ১৯৭১ সালের শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের বাংলাদেশ যেমন ভোলেনি, তেমনি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদেরও কখনো ভুলবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (৫ আগস্ট) ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতাপ্রিয় ও গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য ৫ আগস্ট আনন্দের দিন, বিজয়ের দিন, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দিন।
দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে আজ থেকে ঠিক দুই বছর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এই দিনে দেশের বীর ছাত্র-জনতা এক ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে। গণঅভ্যুত্থানের মুখে ফ্যাসিস্ট সরকার দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয় এবং রাহুমুক্ত হয় বাংলাদেশ।

বিগত সরকারের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদের পতন এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিএনপিসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দল ও ভিন্নমতের মানুষকে সীমাহীন নির্যাতন সইতে হয়েছে। গুম, খুন, অপহরণের শিকার হতে হয়েছে অসংখ্য মানুষকে।
আপসহীন দেশনেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকেও মিথ্যা মামলায় বছরের পর বছর জালিমের কারাগারে কাটাতে হয়েছে।

গণতন্ত্রকামী মানুষের কণ্ঠ স্তব্ধ করতে ‘আয়নাঘর’ তৈরি করা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, আয়নাঘরের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে এক সীমাহীন অনিশ্চয়তায় বছরের পর বছর অগণিত মানুষকে আটকে রাখা হয়েছিল। বিএনপির সাবেক এমপি ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমসহ অসংখ্য নেতাকর্মীর আজও সন্ধান মেলেনি।

দেশের প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের চিত্র তুলে ধরে তারেক রহমান বাণীতে উল্লেখ করেন, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশনসহ দেশের সাংবিধানিক ও বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকার্যকর করে ফেলা হয়েছিল। নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করে দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা ধ্বংস করে দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিল। ব্যাংকিং খাতকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়ে অনিয়ম, দুর্নীতি, লুটপাট আর টাকা পাচারকেই স্বাভাবিক কাণ্ডে পরিণত করা হয়েছিল।

জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সব শ্রেণিপেশার মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নেমে এসেছিলেন। গণঅভ্যুত্থান দমনে মরিয়া ফ্যাসিস্ট সরকার রাজপথে গণতন্ত্রকামী জনগণের বুকে গুলি করে পাখির মতো মানুষ হত্যা করেছে। হেলিকপ্টার থেকেও গুলি চালানো হয়েছে। স্বৈরাচারের বন্দুকের সামনে রংপুরের শহীদ আবু সাঈদ, চট্টগ্রামের শহীদ ওয়াসিম আকরাম কিংবা ঢাকার শহীদ মুগ্ধসহ অসংখ্য সাহসী সন্তান হয়ে উঠেছিলেন গণতন্ত্রকামী মানুষের প্রেরণা। এই আন্দোলনে হাজারো মানুষ শহীদ হয়েছেন এবং অন্তত ৩০ হাজার মানুষ আহত বা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।

৫ আগস্টের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি। গণতন্ত্রকামী জনগণের আন্দোলনে ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্টরা গণভবন ছেড়ে পালিয়েছে। সংসদ ছেড়ে কথিত সংসদ সদস্যরা, আদালত ছেড়ে প্রধান বিচারপতি, বায়তুল মোকাররম ছেড়ে প্রধান খতিব এবং মন্ত্রিসভা ছেড়ে মন্ত্রীরা পালিয়েছেন। ৫ আগস্ট বাংলাদেশে যা ঘটেছে, তা বিশ্বের ইতিহাসেও এক নজিরবিহীন ঘটনা।

শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, শহীদরা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে আমাদের ঋণী করে গেছেন। এখন শহীদদের প্রতি আমাদের ঋণ পরিশোধের পালা। সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক, স্বনির্ভর, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার মাধ্যমেই এই ঋণ পরিশোধ করতে হবে।

জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, হাজারো শহীদের রক্তে স্নাত রাজপথে অভূতপূর্ব জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছে। এটি যেকোনো মূল্যে রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। আমাদের মধ্যে ভিন্নমত থাকবে, এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। কিন্তু ভিন্ন চিন্তা বা মত যেন শত্রুতায় পর্যবসিত না হয়, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, বাংলাদেশে আর কখনোই স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ, চরমপন্থা কিংবা উগ্রবাদ কায়েম হবে না, কখনোই দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে দেওয়া হবে না। এসব মৌলিক প্রশ্নে প্রতিষ্ঠিত জাতীয় ঐক্য অটুট আছে এবং থাকবে।