সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৬ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬ সফর, ১৪৪৮ হিজরি

রিয়াদের সোফা কারখানায় আগুন, নিহত ১৩ জনই নওগাঁর আত্রাইয়ের

নওগাঁ প্রতিনিধি : সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ মহানগরের শিফা থানাধীন মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

বাংলাদেশ দূতাবাস, রিয়াদ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি কর্মীদের পরিচালিত ওই সোফা কারখানায় মোট ১৭ জন বাংলাদেশি শ্রমিক কাজ করতেন। দুর্ঘটনার সময় কারখানায় থাকা একমাত্র জীবিত কর্মী হাবিবুর রহমান দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে চুল কাটার জন্য বাইরে একটি সেলুনে যান। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে তিনি কারখানাটিতে আগুন জ্বলতে দেখতে পান।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা ও স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা। দীর্ঘ সময় ধরে উদ্ধার অভিযান চালানোর পর রাত আনুমানিক ১১টার দিকে অভিযান শেষ হয়। এ সময় কারখানার ভেতর থেকে ১৬ জন বাংলাদেশি শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় সিভিল ডিফেন্সের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে আটজন আগুনে এবং অপর আটজন ঘন কালো ধোঁয়ায় শ্বাস বন্ধ হয়ে মারা গেছেন।

নিহতদের ১৩ জনই নওগাঁর আত্রাইয়ের:

নিহত ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিকের মধ্যে ১৩ জন নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার, ২ জন নাটোর জেলার নলডাঙ্গা উপজেলার এবং ১ জন রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলার বাসিন্দা। এ ঘটনায় নওগাঁর আত্রাইসহ সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

একসঙ্গে আত্রাই উপজেলার ১৩ জন প্রবাসী শ্রমিকের মৃত্যুর খবরে তাদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম চলছে। প্রিয়জন হারানোর বেদনায় কান্নায় ভেঙে পড়েছেন স্বজনরা। নিহতদের বাড়িতে ভিড় করছেন আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা।

নিহতদের প্রাথমিক পরিচয় ও ঠিকানা যাচাইয়ের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মরদেহ সৌদি আরবে দাফন করা হবে, নাকি বাংলাদেশে পাঠানো হবে—এ বিষয়ে নিহতদের পরিবারের লিখিত মতামত নেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ দূতাবাস সৌদি আরবের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে মরদেহ শনাক্তকরণ, হস্তান্তর এবং পরবর্তী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

এ মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতদের পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন স্থানীয়রা। প্রিয়জনদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে স্বজনদের কাছে শেষ বিদায়ের সুযোগ করে দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে শোকাহত পরিবারগুলো।