সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৬ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬ সফর, ১৪৪৮ হিজরি

খাগড়াছড়িতে তিন স্কুলে কেউ পাশ করেনি,পাশের হার ৩৫ শতাংশ

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি : খাগড়াছড়ির তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাশ করেনি। এ তিনটি বিদ্যালয় হচ্ছে,ভাইবোনছড়া গার্লস হাই স্কুল, জারুলছড়ি হেডম্যান পাড়া হাই স্কুল ও তারাবানিয়া হাই স্কুল।

জানা গেছে, এই তিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৪২ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তবে ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, তাদের মধ্যে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি।

খাগড়াছড়ি জেলার স্কুলগুলোতে পাসের হার ৩৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ, আর মাদ্রাসায় পাসের হার ৫২ দশমিক ০৮ শতাংশ। জেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এবার জেলার বিভিন্ন স্কুল থেকে মোট ৭ হাজার ৭৭৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে ২ হাজার ৭৬৬ জন। স্কুল পর্যায়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৯০ জন।

অন্যদিকে, মাদ্রাসা থেকে মোট ৭৬৮ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৪০০ জন। মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের পাসের হার ৫২ দশমিক ০৮ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন।

সব মিলিয়ে স্কুল ও মাদ্রাসা মিলিয়ে ৮ হাজার ৫৪৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৩ হাজার ১৬৬ জন। ফলে সম্মিলিত পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ০৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে মোট ১৯৬ জন।

স্কুল পর্যায়ের ফলাফলে সবচেয়ে বেশি পাসের হার মানিকছড়িতে—৪০ দশমিক ২১ শতাংশ। এরপর রামগড়ে ৩৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ, লক্ষ্মীছড়িতে ৩৪ দশমিক ১৯ শতাংশ, পানছড়িতে ৩১ দশমিক ৫২ শতাংশ এবং গুইমারায় ৩১ দশমিক ১২ শতাংশ। অন্যদিকে স্কুল পর্যায়ে সবচেয়ে কম পাসের হার দীঘিনালায়—২২ দশমিক ৮৪ শতাংশ। মহালছড়িতে পাসের হার ২৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং মাটিরাঙ্গায় ৩২ দশমিক ১৮ শতাংশ।

মাদ্রাসা পর্যায়ে সবচেয়ে ভালো ফল করেছে মানিকছড়ি, যেখানে পাসের হার ৫২ দশমিক ৬৯ শতাংশ। পানছড়িতে ৪১ দশমিক ৪৩ শতাংশ, মাটিরাঙ্গায় ৪৩ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং গুইমারায় ৬২ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।

খাগড়াছড়ি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সিকদার বলেন,” এসএসসি সমমান পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ছিল ৯ হাজার ৯শ ৬৫ জন শিক্ষার্থী। তিনটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোন শিক্ষার্থী পাশ করেনি।”

খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ পুলক বরণ চাকমা বলেন, এখানে খাগড়াছড়ির রেজাল্টের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে যে, দুর্গম অঞ্চলের স্কুলগুলো খারাপ করেছে। তার মধ্যে দুর্গম স্কুলের যে সমস্যাটা হচ্ছে, যেহেতু দুর্গম এলাকা, এখানে সচেতনতার অভাব আছে, অভিভাবকদের দারিদ্র্য আছে, আবার এখানে শিক্ষক সংকট আছে। আরেকটা মনে করি যে, শিক্ষকদের ভূমিকার ক্ষেত্রে আমি মনে করি, এখন নৈতিকতার এক ধরনের অভাব আছে, এটা আমার কাছে মনে হয়। এবং তাদেরকে যথাযথ প্রশিক্ষণ দেওয়া খুবই জরুরী। এখানে পাহাড়ে যদি আমরা ভবিষ্যতের রেজাল্ট ভালো করতে চাই, তাহলে এই সমস্যাগুলোকে অ্যাড্রেস করতে হবে।”