শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩১ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

ফখরুদ্দীন ও মঈন সরকারের প্রলোভনে পাম চাষ করে সর্বস্বান্ত শত শত কৃষক

এইচ এম প্রফুল্ল, খাগড়াছড়ি : ফখরুদ্দীন-মঈন সরকারের মালয়েশিয়া হওয়ার স্বপ্ন ও প্রলোভনে পড়ে পাম চাষ করে সর্বস্বান্ত হয়েছেন খাগড়াছড়ির শত শত কৃষক। পাম ফলতো ধরেনি বরং যা ধরেছে সংগ্রহ করে তেল উৎপাদন কিংবা বিক্রির কোনো ব্যবস্থা নেই। পাম ফল থেকে তেল নিষ্কাশনের জন্য ২০১৬ সালে খাগড়াছড়ি বিসিক শিল্প নগরীতে একটি মেশিন বসালেও এক ফোটা তেলও উৎপাদন সম্ভব হয়নি। সরকারি দফতরগুলোও এ অসহায় চাষিদের পাশে দাড়াচ্ছে না। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পাম চাষিরা হতাশার সাগরে ভাসছেন।
জানা গেছে,২০০৭-২০০৮ সালে ১/১১-এর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহমদ এবং সাবেক সেনাপ্রধান অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল মঈন ইউ আহমেদ-এর সরকারের আমলে পাম গাছ লাগালে খাগড়াছড়ির কৃষকদের মালয়েশিয়ায় পরিণত হবে স্বপ্ন ও প্রলোভন দেখানো হয়।
আর স্বপ্ন ও প্রলোভনে পড়ে কৃষকেরা হুমড়ি খেয়ে পড়ে।খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পাহাড়ের ঢালে ঢালে লাগানো হাজার হাজার পাম গাছ। কিন্ত কয়েক বছর কৃষকের স্বপ্ন গুড়ে বালিতে পরিণত হয়। কিছু কিছু গাছে পাম ধরলেও উৎপাদিত পাম ফল সংরক্ষণ, বিপণন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যবস্থা না থাকায় শত শত কৃষক হতাশ হয়ে পড়ে।কৃষকদের অভিযোগ,একটি পাম গাছ কাটতে অনেক টাকা খরচ হচ্ছে। তারপরও শ্রমিক মিলছে না।
জনশ্রুতি রয়েছে, মঈন ইউ আহমেদ-এর ছোট ভাই মিনহাজ আহমেদ জাবেদ পাম গাছের চারা সরবরাহ করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়।
পরবর্তীতে খাগড়াছড়ি বিসিক শিল্প নগরীতে পাম চাষীদের উদ্যোগে কর্ণফুলী গোল্ডেন পাম লিমিটেড নামে সমিতির মাধ্যমে একটি মেশিন বসালেও এক ফোটা তেলও উৎপাদন সম্ভব হয়নি। ফলে পাম প্রক্রিয়াজাতকরণের কারখানাটি এক পর্যায়ে বন্ধ হয়ে যায়।
অভিযোগ রয়েছে,খাগড়াছড়িতে পাম প্রকল্প ও প্রক্রিয়াজাতকরণের নামে কিছু ব্যক্তি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অন্তত ৪০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে উধাও হয়ে গেছে।
প্রকৃতি প্রেমী মাহফুজ আহমেদ রাসেল মতে, খাগড়াছড়ির কোন কৃষক স্বপ্ন দেখেনি। তাদের স্বপ্ন দেখানো হয়েছে। মিথ্যা স্বপ্ন ও প্রলোভনে পড়ে শত শত কৃষক এখন সর্বস্বান্ত।
খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক ওঙ্কার বিশ্বাস জানান,খাগড়াছড়ি জেলায় দুই থেকে আড়াই শত হেক্টর জমিতে পাম গাছ লাগানো হয়। যা এখন কৃষকের গলার কাটায় পরিণত হয়েছে।
খাগড়াছড়ি বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো: ফরিদ মিয়া বলেন,অপরিকল্পিতভাবে পাম গাছ লাগানোর কারণে এটি লস প্রকল্পে পরিণত হয়েছে।
খাগড়াছড়ির সর্বস্বান্ত পাম চাষীদের রক্ষায় সরকার এগিয়ে আসবেন এমনি প্রত্যাশা কৃষকদের।